আল্লাহর পরিচয় বিস্তারিত- মাওলানা শরিফ আহমাদ

248

 আল্লাহর পরিচয়

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ । প্রিয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ । এই প্রবন্ধে মহান আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে আপনাদের মনে লুকায়িত প্রশ্নের পাহাড় গুলোর উত্তর দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ । অতএব পুরো লেখাটি পড়ুন । লিখেছেন‌- শরিফ আহমাদ ।

আল্লাহ কে ? 

আল্লাহর পরিচয়

উত্তরঃ- এই যে দেখুন বিশাল সৃষ্টি জগৎ । হাজার হাজার মাখলুক । সবগুলোকে সৃষ্টি করেছেন একজন স্রষ্টা । তিনিই আল্লাহ । তিনি সদা সর্বত্র বিরাজমান । তিনি এক ও অদ্বিতীয় । তাঁর কোন শরীক নেই  ।

মহান আল্লাহর প্রধান সত্তা সূচক গুণ

 

আটটি । ১.  হায়াত ২. ইলম ৩. ইচ্ছা ৪. কুদরত ৫. শ্রবণ ৬.দৃষ্টি ৭. কালাম ৮. তাকভীন ।

আল্লাহর ৮ টি গুণের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ★

১. হায়াত আল্লাহর একটি বড় সিফাত । শব্দটির অর্থ হচ্ছে চিরন্তন, চিরঞ্জীব । ‌ তিনি সর্বত্র আছেন । থাকবেন। তিনি কখনো বিলীন হবেন না । তিনি সবাইকে জীবন দান করেন ।

২. ইলম আল্লাহর একটি বড় গুণ । শব্দটির অর্থ হচ্ছে জ্ঞান । আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞানী । সর্ব বিষয়ে তার জ্ঞান সমভাবে পরিব্যপ্ত । তার কাছে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কোনো পার্থক্য‌নেই। পৃথিবীর সমস্ত কিছু তার জ্ঞানের বাইরে নয় ।
৩. আল্লাহ তাআলা কোন কিছুর ইচ্ছা প্রকাশ করলে শুধু বলেন কুন । ( كن ) অর্থাৎ হয়ে যাও । সঙ্গে সঙ্গে তাই হয়ে যায় ।
৪. কুদরত আল্লাহর পাওয়ারফুল একটি গুণ । এই পৃথিবীতে যা কিছু হয়েছে , হচ্ছে এবং আগামীতে হবে সব আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতে । মানুষ যদি কোন বস্তুর মধ্যে কোন পাওয়ার দেখে তাহলে সেটা তার নিজস্ব নয় । সেটা আল্লাহর কুদরতে হচ্ছে ।

৫. আল্লাহর আর একটি গুণ হলো তিনি সর্বশ্রোতা । মানুষ আস্তে এবং জোরে প্রকাশ্য এবং গোপনে যে কথাবার্তা বলে তিনি সবকিছু শোনেন । এমনকি আকাশের উপর, সমুদ্রের নিচে যদি কেউ কোন কিছু বলে বা কোন প্রাণী কোন আওয়াজ করে তিনি তবুও শুনতে পান ।

৬. আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সৃষ্টির সবকিছু দেখেন । কোন কিছুই তার দৃষ্টির আড়ালে নয় । এমনকি যদি অন্ধকারের মধ্যে কোন পিপীলিকা হেঁটে যায় তিনি তার পায়ের ছাপ দেখতে পান এবং শব্দ শুনতে পান ।

৭. কালাম মানে হচ্ছে কথা । এই বিশ্বজগত সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য তিনি যে বিধিনিষেধ দিয়েছেন । হুকুম আহকাম নির্ধারণ করেছেন এসব কিছু কালামের মধ্যে আছে । আর কালাম হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারীম ।

৮. ­তাকভীন মানে হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা। আসমান জমিন , গ্রহ নক্ষত্র ,আরশ-কুরছি ,লৌহ-কলম, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষলতা, সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি । এসব সৃষ্টি করতে তিনি কারও কোনো পরামর্শ বা সাহায্য নেননি । এইসব তিনি ধ্বংস করে আবার সৃষ্টি করতে সক্ষম । উল্লেখিত গুণগুলো ছাড়াও‌ যত রকম সিফাত হতে পারে সবগুলো একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য প্রযোজ্য হবে ।

আল্লাহর সৃষ্টি  জগত কতটি ?

 

উত্তরঃ- আল্লাহ‌ তাআলার সৃষ্টি জগতের সংখ্যা নিয়ে  বিভিন্ন রকম মন্তব্য রয়েছেঃ হযরত  ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ  রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন আল্লাহপাকের আঠারো হাজার মাখলুকাত রয়েছে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন চল্লিশ হাজার মাখলুক রয়েছে । ( সূত্র ইবনে কাসীর খন্ড নং ১ পৃষ্ঠা নং ২৫ )

হযরত মারওয়ান ইবনে হাকাম রহ: বলেন আল্লাহ তাআলা সতেরো হাজার জগৎ সৃষ্টি করেছেন । হযরত আবু আলিয়া রহ:  বলেন সমস্ত মানুষ একটা জগত । সমস্ত জীন একটা জগত এবং এছাড়া আরো আঠারো হাজার জগত রয়েছে ।

 

আল্লাহ পরিচয় সম্পর্কে ১০ টি বাক্যঃ

 

হযরত হুমায়ুন রহ: বলেন বিশ্ব জাহানে এক হাজার জগত রয়েছে । ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ: বলেন আঠারো হাজার জগতের মধ্যে সারা দুনিয়া একটি জগত । ( সূত্র ইবনে কাসীর ১ম খন্ড ১২৪ পৃষ্ঠা )
হযরত মুকাতিল রহ: বলেন জগতের সংখ্যা আশি হাজার ।  তন্মধ্যে হতে চল্লিশ হাজার জগতে স্থলে এবং অপর চল্লিশ হাজার জলে । ( সূত্র কুরতবী )

- Advertisement -

উল্লেখিত মতামতগুলোর স্বপক্ষে কোন ইমাম কোন হাদীস পেশ করেননি । তারা মূলত সংখ্যা বেশি বুঝাতে চেয়েছেন । এজন্যই হয়তো নিজ গবেষণার আলোকে তারা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। যেহেতু কারো বক্তব্য থেকে কোন দলীল পাওয়া যায়নি অতএব এ কথা ক্লিয়ার যে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি অসংখ্য মাখলুক ।
অগণিত জগত ।

 

আল্লাহ  শব্দের ব্যাখ্যা কি? 

উত্তরঃ- আল্লাহ একটি আরবি শব্দ । এটি সৃষ্টিকর্তার আসল নাম । বাকি সব নাম গুণবাচক । আল্লাহ শব্দটি একমাত্র মুসলমানরাই ব্যবহার করে থাকেন । এই আল্লাহ শব্দটির মধ্যে অনেক তথ্য, অনেক হেকমত ও কারিশমা লুকায়িত আছে । এই শব্দটিকে যদি ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেখানো হয় তারপরেও আল্লাহতালা কে বোঝায় ।

আরেকটু বুঝিয়ে বলি আমার নাম শরিফ আহমাদ।‌ প্রথম শব্দ‌ শরিফ কে নিচ্ছি । দ্বিতীয় অংশ আপাতত বাদ।‌  শরিফ শব্দকে যদি ভেঙ্গে লিখি তাহলে হচ্ছে- শ+ রি+ফ । তিনটি বর্ণকে একত্র করলে হচ্ছে শরিফ । তখন অর্থ দাঁড়াবে সম্ভ্রান্ত, ভদ্র ইত্যাদি । একত্র করা ছাড়া আলাদা শ+ রি+ফ এর কোন অর্থ নেই । কিন্তু আল্লাহ শব্দটি যদি ভেঙ্গে লেখা হয় তাহলে- আলিফ , দুটো লাম, একটি হা । এই শব্দকে একত্র করা ছাড়াও আল্লাহ তাআলাকে বোঝানো যায় । আল্লাহ শব্দের শুধু আলিফ বাদ দিলে হবে লিল্লাহি ।‌ এবার দেখুন পবিত্র কোরআন কী বলে –
لله ما في السماوات وما في الارض
দেখুন আলিফ বাদ দিয়ে ও‌ আল্লাহ তাআলাকে বুঝালো‌ । এবার একটি লাম কে বাদ দিলে হবে লাহু ।  দেখুন পবিত্র কুরআন কী বলে –
له ما في السماوات وما في الارض
লাম বাদ দিয়েও আল্লাহ তাআলাকে বোঝালো ‌।‌ এবার লামকে বাদ দিলে হবে হু । দেখুন পবিত্র কুরআন কী বলে-
هُوَ اللهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ  ۚ
এবার ও‌ আল্লাহ তাআলাকে বুঝালো‌ ।  সুবহানাল্লাহ ।  আল্লাহর নামের মধ্যে এমন কত রহস্য আছে আল্লাহই মালুম। তাছাড়া পবিত্র কোরআনে আল্লাহ শব্দটি ২৬৮৪ বারের বেশি স্থানে এসেছে ।‌ আমরা কথায় কথায় আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করি ‌। আল্লাহ নামের জিকির করি । কিছু নমুনা দেখুন । ১/ بسم الله الرحمن الرحيم
سبحان الله/২
الحمد لله/৩
الله اكبر/৪
ان شاء الله/৫
لا اله الا الله محمد رسول الله/৬

আসমাউল হুসনা কী ?

 

উত্তরঃ- আল্লাহ তাআলার অসংখ্য জাতী ও সিফাতী  সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে । পবিত্র কুরআনের ঘোষণা-
মহান আল্লাহ তাআলার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে । সুতরাং তোমরা সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকো । আর যারা আল্লাহর নামের বিকৃতি ঘটায় তাদেরকে বর্জন করো । ( সূরা আল আরাফ, আয়াত নং ১৮০)
আল্লাহ তাআলার নাম সংক্রান্ত অনেক হাদিস পাওয়া যায় ।

তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে হযরত আবু হোরায়রা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন আল্লাহ তাআলার ৯৯- এক কম ১০০টি নাম রয়েছে । যে ব্যক্তির নামগুলো মুখস্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে । ( দেখুন সহীহ বুখারী: হাদীস নং ২৭৩৬, ৭৩৯২, সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ২৬৭৭, জামে তিরমিযী: হাদীস নং ৩৫০৬ ।

আল্লাহ তাআলার ৯৯ টি নামের বাইরে ও আরো অনেক সিফাতি নাম আছে । এই সবগুলোকে একত্রে আল- আসমাউল হুসনা বলা হয় । আর‌ সেগুলোকে আরবীতে- বাংলায় এবং অর্থসহ নিচে দেওয়া হল-

আসমাউল হুসনা

 আল্লাহপাকের ৯৯ টি নামের তালিকা অর্থ সহঃ


الله
আল্লাহ
আল্লাহ

الرحمن
আর রাহমান
পরম দয়ালু

الرحيم
আর-রহী’ম
অতিশয়-মেহেরবান

الملك
আল-মালিক
সর্বকর্তৃত্বময়

القدوس
আল-কুদ্দুস
নিষ্কলুষ, অতি পবিত্র

السلام
আস-সালাম
নিরাপত্তা-দানকারী, শান্তি-দানকারী

المؤمن
আল-মু’মিন
নিরাপত্তা ও ঈমান দানকারী

المهيمن
আল-মুহাইমিন
পরিপূর্ন রক্ষণাবেক্ষণকারী

العزيز
আল-আ’জীজ
পরাক্রমশালী, অপরাজেয়

আপনারা পড়ছেন – আল্লাহ পরিচয় 

১০
الجبار
আল-জাব্বার
দুর্নিবার
১১
المتكبر
আল-মুতাকাব্বিইর
নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
১২
الخالق
আল-খালিক্ব
সৃষ্টিকর্তা
১৩
البارئ
আল-বারী
সঠিকভাবে সৃষ্টিকারী
১৪
المصور
আল-মুছউইর
আকৃতি-দানকারী
১৫
الغفار
আল-গফ্ফার
পরম ক্ষমাশীল
১৬
القهار
আল-ক্বাহার
কঠোর
১৭
الوهاب
আল-ওয়াহ্হাব
সবকিছু দানকারী
১৮
الرزاق
আর-রজ্জাক্ব
রিযিকদাতা
১৯
الفتاح
আল ফাত্তাহ
বিজয়দানকারী
২০
العليم
আল-আ’লীম
সর্বজ্ঞ
২১
القابض
আল-ক্ববিদ্ব’
সংকীর্ণকারী
২২
الباسط
আল-বাসিত
প্রশস্তকারী
22
الخافض
আল-খফিদ্বু
অবনতকারী
২৪
الرافع
আর-রফীই’
উন্নতকারী
২৫
المعز
আল-মুই’জ্ব
সম্মান-দানকারী
২৬
المذل
আল-মুদ্বি’ল্লু
(অবিশ্বাসীদের) বেইজ্জতকারী
২৭
السميع
আস্-সামিই’
সর্বশ্রোতা
২৮
البصير
আল-বাছীর
সর্ববিষয়-দর্শনকারী
২৯
الحكم
আল-হা’কাম
অটল বিচারক
৩০
العدل
আল-আ’দল
পরিপূর্ণ-ন্যায়বিচারক
৩১
اللطيف
আল-লাতীফ
সকল-গোপন-বিষয়ে-অবগত
৩২
الخبير
আল-খ’বীর
সকল ব্যাপারে জ্ঞাত
৩৩
الحليم
আল-হা’লীম
অত্যন্ত ধৈর্যশীল
৩৪
العظيم
আল-আ’জীম
সর্বোচ্চ-মর্যাদাশীল
৩৫
الغفور
আল-গফুর
পরম ক্ষমাশীল
৩৬
الشكور
আশ্-শাকুর
গুনগ্রাহী
৩৭
العلي
আল-আ’লিইউ
উচ্চ-মর্যাদাশীল
৩৮
الكبير
আল-কাবিইর
সুমহান
৩৯
الحفيظ
আল-হা’ফীজ
সংরক্ষণকারী
৪০
المقيت
আল-মুক্বীত
সকলের জীবনোপকরণ-দানকারী
৪১
الحسيب
আল-হাসীব
হিসাব-গ্রহণকারী
৪২
الجليل
আল-জালীল
পরম মর্যাদার অধিকারী
৪৩
الكريم
আল-কারীম
সুমহান দাতা
৪৪
الرقيب
আর-রক্বীব
তত্ত্বাবধায়ক
৪৫
المجيب
আল-মুজীব
জবাব-দানকারী, কবুলকারী
৪৬
الواسع
আল-ওয়াসি’
সর্ব-ব্যাপী, সর্বত্র-বিরাজমান
৪৭
الحكيم
আল-হাকীম
পরম-প্রজ্ঞাময়
৪৮
الودود
আল-ওয়াদুদ
(বান্দাদের প্রতি) সদয়
৪৯
المجيد
আল-মাজীদ
সকল-মর্যাদার-অধিকারী
৫০
الباعث
আল-বাই’ছ’
পুনুরুজ্জীবিতকারী

৫১

الشهيد

আশ্-শাহীদ

সর্বজ্ঞ-স্বাক্ষী

৫২

الحق

আল-হা’ক্ব

পরম সত্য

৫৩

الوكيل

আল-ওয়াকিল

পরম নির্ভরযোগ্য কর্ম-সম্পাদনকারী

৫৪

القوي

আল-ক্বউইউ

পরম-শক্তির-অধিকারী

৫৫

المتين

আল-মাতীন

সুদৃঢ়

৫৬

الولي

আল-ওয়ালিইউ

অভিভাবক ও সাহায্যকারী

৫৭

الحميد

আল-হা’মীদ

সকল প্রশংসার অধিকারী

৫৮

المحصي

আল-মুহছী

সকল সৃষ্টির ব্যপারে অবগত

৫৯

المبدئ

আল-মুব্দি’

প্রথমবার-সৃষ্টিকর্তা

৬০

المعيد

আল-মুঈ’দ

পুনরায়-সৃষ্টিকর্তা

৬১

المحيي

আল-মুহ’য়ী

জীবন-দানকারী

৬২

المميت

আল-মুমীত

মৃত্যু-দানকারী

৬৩

الحي

আল-হাইয়্যু

চিরঞ্জীব

৬৪

القيوم

আল-ক্বাইয়্যুম

সমস্তকিছুর ধারক ও সংরক্ষণকারী

৬৫

الواجد

আল-ওয়াজিদ

অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী

৬৬

الماجد

আল-মাজিদ

শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী

৬৭

الواحد

আল-ওয়াহি’দ

এক ও অদ্বিতীয়

৬৮

الصمد

আছ্-ছমাদ

অমুখাপেক্ষী

৬৯

القادر

আল-ক্বদির

সর্বশক্তিমান

৭০

المقتدر

আল-মুক্ব্তাদির

নিরঙ্কুশ-সিদ্বান্তের-অধিকারী

৭১

المقدم

আল-মুক্বদ্দিম

অগ্রসারক

৭২

المؤخر

আল-মুয়াক্খির

অবকাশ দানকারী

৭৩

الأول

আল-আউয়াল

অনাদি

৭৪

الأخر

আল-আখির

অনন্ত, সর্বশেষ

৭৫

الظاهر

আজ-জ’হির

সম্পূর্নরূপে-প্রকাশিত

৭৬

الباطن

আল-বাত্বিন

দৃষ্টি হতে অদৃশ্য

৭৭

الوالي

আল-ওয়ালি

সমস্ত-কিছুর-অভিভাবক

৭৮

المتعالي

আল-মুতাআ’লি

সৃষ্টির গুনাবলীর উর্দ্ধে

৭৯

البر

আল-বার্

পরম-উপকারী, অণুগ্রহশীল

৮০

التواب

আত্-তাওয়াব

তাওবার তাওফিক দানকারী এবং কবুলকারী

৮১

المنتقم

আল-মুনতাক্বিম

প্রতিশোধ-গ্রহণকারী

৮২

العفو

আল-আ’ফঊ

পরম-উদার

৮৩

الرؤوف

আর-রউফ

পরম-স্নেহশীল

৮৪

مالك الملك

- Advertisement -

মালিকুল-মুলক

সমগ্র জগতের বাদশাহ্

৮৫

ذو الجلال والإكرام

যুল-জালালি-ওয়াল-ইকরাম

মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা

৮৬

المقسط

আল-মুক্ব্সিত

হকদারের হক-আদায়কারী

৮৭

الجامع

আল-জামিই’

একত্রকারী, সমবেতকারী

৮৮

الغني

আল-গণিই’

অমুখাপেক্ষী ধনী

৮৯

المغني

আল-মুগণিই’

পরম-অভাবমোচনকারী

৯০

المانع

আল-মানিই’

অকল্যানরোধক

৯১

الضار

আয্-যর

ক্ষতিসাধনকারী

৯২

النافع

আন্-নাফিই’

কল্যাণকারী

৯৩

النور

আন্-নূর

পরম-আলো

৯৪

الهادي

আল-হাদী

পথ-প্রদর্শক

৯৫

البديع

আল-বাদীই’

অতুলনীয়

৯৬

الباقي

আল-বাক্বী

চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর

৯৭

الوارث

আল-ওয়ারিস’

উত্তরাধিকারী

৯৮

الرشيد

আর-রাশীদ

সঠিক পথ-প্রদর্শক

৯৯

الصبور

আস-সবুর

অত্যধিক ধৈর্যধারণকারী

আল্লাহর  পরিচয় সংক্রান্ত সূরা কোনটি? 

উত্তরঃ- আল্লাহর পরিচয় সংক্রান্ত একমাত্র পবিত্র কুরআনের সূরা হচ্ছে সূরা ইখলাছ । আরবীতে দেখুন-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ – اللَّهُ الصَّمَدُ – لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ – وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ .

অনুবাদঃ ( হে রাসুল আপনি) বলুন তিনিই আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় । আল্লাহ মুখাপেক্ষী । তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি । আর তার সমতুল্য কেউ নেই ।

সুরা ইখলাস

সুরা ইখলাসের কাব্যানুবাদ

শুরু করিলাম প্রথম নামেতে আল্লার

শেষ নাই সীমা নাই যার করুনার

বল আল্লাহ এক প্রভু ইচ্ছাময়

নিষ্কাম নিরপেক্ষ অন্য কেহ নয়

করেন না কাহারে ও তিনি যে জনন

কাহারো ঔরস জাত তিনি নন

সমতল তার

নাই কেহ আর ।

   (কবি কাজী নজরুল ইসলাম রহ: )

সূরা ইখলাস ছাড়াও আরও বেশ কিছু সুরায় আল্লাহ তাআলার পরিচয় পাওয়া যায় । সেগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ- সূরা বাকারা আয়াত নং ২৫৫, সূরা আন নিসা আয়াত নং ৮৭ , সূরা রাদ আয়াত নং ২ , সুরা ইবরাহিম আয়াত নং ৩২ ,৩৩,৩৪, সূরা ত্বহা আয়াত নং ৮ , সূরা নূর আয়াত নং ৩৫ , সূরা রুম আয়াত নং ১১,৪০,৪৮,৫৪, সূরা সাফফাত আয়াত নং ৩৭, সূরা যুমার আয়াত নং ৬২,৬৩,৬৪,৬৫, সূরা গাফির আয়াত নং ৬১,৬২ সুরা মূলক আয়াত নং ১-২ ।

উল্লেখিত এই সুরাগুলো ছাড়াও প্রতিটি পাতায় পাতায় আয়াতের শেষে আল্লাহ তাআলার পরিচয় সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করা হয়েছে

আল্লাহ  দেখতে কেমন ?

 

উত্তরঃ- মহান আল্লাহ সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । ব্যতিক্রমী এক সত্তা । পৃথিবীর কোন কিছুর সঙ্গে তাকে তুলনা করা বোকামি । চরম মূর্খতা । কেননা তিনি সবাইকে সৃষ্টি করেছেন । কেউ তাকে সৃষ্টি করেননি।

আল্লাহ দেখতে কেমন

আল্লাহর কুদরতি হাত আছে । সেটা আমাদের হাতের মত নয় । অন্য কোনো মাখলুকের মত নয় ‌। আল্লাহর কুদরতি পা আছে । সেটা আমাদের পায়ের মত নয় । অন্য কোন মাখলুকর মত নয় । আল্লাহর কুদরতি চোখ আছে । সেটা আমাদের চোখের মত নয় । অন্য কোন মাখলুকের মত নয় ।‌

আল্লাহর কুদরতি সবকিছু আছে । তবে সেটা কোন সৃষ্টির মত নয় । আল্লাহ তাআলা ঠিক তার মত । এটা আমাদের মস্তিষ্কে ধারণ ক্ষমতার বাইরে।‌ একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলি ।

দেখুন মোবাইলের সাহায্যে এক প্রান্তে বসে আরেক প্রান্তে কথা হচ্ছে। এসএমএস যাচ্ছে । ভিডিও কলে সবকিছু করা যাচ্ছে । অথচ কোন মোবাইলে কোন তার সংযোগ নেই ।‌ এটা কিভাবে সম্ভব হচ্ছে ? হয়তো বলবেন বিজ্ঞানের আবিষ্কার । সেই টেলিফোন আবিষ্কারক গ্রাহাম বেল এটা কিভাবে করলো ? একটু ভেবে দেখুন তো মাথায় কিছু ধরে কিনা ! সামান্য এই বিষয়গুলো যদি বুঝে না আসে তাহলে স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার সত্তাকে কিভাবে বুঝে আসবে ?

আল্লাহ দেখতে কেমন ? তার আগে কে ছিল ? এগুলো নাস্তিকদের প্রশ্ন । এরকম প্রশ্ন মনের মধ্যে এলে বুঝতে হবে শয়তান এগুলো দ্বারা ঈমানের দৌলত চুরি করতে চাচ্ছে । মনে ওয়াসওয়াসার বীজ বপন করে বেইমান বানানোর ষড়যন্ত্র করছে । তখন এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য এ তিনটি আমল করতে হবে ।

আপনারা পড়ছেন – আল্লাহ পরিচয় 

১. আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীম পরে নেওয়া । ২. আমন্তু বিল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ঈমান আল্লাহ এই জাতীয় বাক্য গুলো বেশি করে পড়া ।

৩. উক্ত চিন্তা হতে বিরত হয়ে অন্য কোন চিন্তা বা কাজে মশগুল হয়ে যাওয়া ।

আল্লাহর দীদার সম্পর্কে ইসলামী আকিদা কি ?

 

উত্তরঃ- আল্লাহ তাআলার দীদার বা আল্লাহ তাআলাকে দেখা সম্বন্ধে ইসলামের আকিদা হলো- দুনিয়ায় থেকে জাগ্রত অবস্থায় এই চর্মচক্ষু দ্বারা কেউ আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পারেনি এবং পারবে না । এজন্য হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তুর পাহাড়ে গিয়ে আল্লাহ তাআলাকে দেখতে চাওয়ার পরেও দেখতে পাননি ।

আল্লাহর দীদার

আর আমাদের নবীজি মেরাজে গিয়ে আল্লাহ তাআলাকে দেখেছেন কিনা এ সম্পর্কে দুই রকম হাদীস পাওয়া যায় । একটি দেখার স্বপক্ষে । আরেকটি না দেখার স্বপক্ষে ।

বাস্তব হাকিকত আল্লাহ এবং তার রাসুল ভালো জানেন ‌। তবে বেহেস্তবাসীগণ বেহেশতে গিয়ে আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন । বেহেশতের অন্যান্য নেয়ামতের তুলনায় দীদারের এই নেয়ামত সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট উপাদেয় মনে হবে । উল্লেখ্য যে স্বপ্নে আল্লাহ তাআলাকে দেখা যায় । তবে সেটাকে দুনিয়ার চর্মচক্ষু তারা দেখা বলা হয় না ।

আল্লাহ তাআলা কোথায় আছেন

?

 

উত্তরঃ আল্লাহ তাআলা কোথায় আছেন এই প্রশ্নটিই করা ঠিক নয় । যদি উল্টো প্রশ্ন করা হয় আল্লাহ তাআলা কোথায় নেই তাহলে কি জবাব দিবে প্রশ্নকর্তা ! আসলে এই প্রশ্নটি‌ নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ তৈরি হয়েছে ।

আল্লাহ কোথায় আছেন

এবং সবাই সবার মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য কখনো কোরআনের কিছু অংশ, হাদিসের আংশিক বর্ণনা দিয়ে নিজের মতকে সঠিক প্রমাণ করতে চাচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই প্রশ্নগুলো নিয়ে গবেষণা বা ঘাটাঘাটি করা ঠিক নয় ।

পূর্বের কোন মুহাক্কিক আলেম-ওলামাগণ এটা করেননি । আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের বক্তব্য হচ্ছে ‌- আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমান । দলীল হিসেবে তারা এই আয়াতগুলো পেশ করেন ।‌ একটু লক্ষ করুন ।

১.

ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ

অনুবাদ: অতঃপর তিনি আরশের উপর ক্ষমতাশীল হোন। ( সূরা হাদীদ-৩)

২.

قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}

অনুবাদ: আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। (সূরা বাকারা-১৮৬)

৩.

قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ}

অনুবাদ: আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}

৪.

فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ. وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ .

অনুবাদ: অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা (সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫)

৫.

{ وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ }

অনুবাদ: পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও,সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত ( সূরা বাকারা-১১৫)

৬.

قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ }

 অনুবাদ: তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন ( সূরা হাদীদ-৪)

৭.

وقال تعالى عن نبيه : ( إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية.

অনুবাদ: যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন (সূরা হাদীদ-৪০)

৮.

قوله تعالى مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7

অনুবাদ: কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন ( সূরা মুজাদালা-৭)

৯.

وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ

অনুবাদ: আল্লাহ তাআলার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫}

উল্লেখিত নয়টি আয়াত ভালো করে পড়ুন । আবার পড়ুন। থেমে থেমে বুঝে বুঝে পড়ুন ।‌ আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমান এ কথার প্রমাণ পেয়ে যাবেন । আল্লাহ তাআলা আরশের উপরেই শুধু থাকেন বিষয়টি এরকম নয় । বিরোধী মতাদর্শী ভাইয়েরা আল্লাহ আরশে আছেন এর স্বপক্ষে দু-একটি আয়াত দিয়ে প্রমাণ দিলেও তারা অনেক আয়াত কে অস্বীকার করে বসে ।

এজন্য সচেতনতার সাথে সমস্ত আয়াতকে সামনে রেখে দেখুন আল্লাহ তাআলা সর্বত্র বিরাজমান এ কথা ক্লিয়ার হয়ে যাবে । ( তবুও কারো যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করুন ।নগদ জবাব পাবেন ইনশাআল্লাহ )

আল্লাহকে চিনব কিভাবে ?

উত্তরঃ- আল্লাহ তাআলা বলেছেন আমি মানুষকে সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি । ( সূরা তীন, আয়াত নং ৪ ) কেউ যদি প্রশ্ন করেন মানব সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি পবিত্র কুরআন উত্তর দিবে আমি জীন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছি যেন আমার ইবাদাত করে ।  ( সূরা যারিয়াত ,আয়াত নং ৫৬ )

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন মুফাসসির লিখেছেন যেন তারা আমার পরিচয় লাভ করতে পারে ‌। কেননা পরিচয় লাভ করলেই সহজেই অন্তরে গুরুত্ব ও তাৎপর্য বসে যায় ‌। এজন্য আল্লাহ তার পরিচয় লাভের জন্য এবং ইবাদত করার জন্য মানুষ ও জীন সৃষ্টি করেছেন । বান্দাকে আল্লাহ তাআলা বুদ্ধি দিয়েছেন । সে বুদ্ধি খাটিয়ে আল্লাহ তাআলাকে চিনতে পারে ।

পৃথিবীর বিভিন্ন নিদর্শন দেখে ও আল্লাহর পরিচয় লাভ করা সম্ভব । পবিত্র কুরআনে এসেছে ,

পৃথিবীতে রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্যে নিদর্শনাবলী । ( সূরা যারিয়াত, আয়াত নং ২০ )

পৃথিবীর বিভিন্ন নিদর্শন ছাড়াও মানুষ যদি তার সাড়ে তিন হাত দেহের দিকে লক্ষ্য করে অর্থাৎ মানুষের মাথা, চোখ ,কান ,নাক, জিব্বা প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দিকে নজর করে তাহলে আল্লাহ তাদের পরিচয় পেয়ে যাবে । এবং আল্লাহর কুদরতে প্রমাণ পাবে । একই পাতিলে রান্না করা ভাত খেয়ে কেউ মোটা হচ্ছে ।

কেউ চিকন হচ্ছে । কারো বয়স বাড়ছে । কারো যৌবন বৃদ্ধি পাচ্ছে । কেউ সুস্থ হচ্ছে । কেউ অসুস্থ হচ্ছে । এসব গুলো কি আল্লাহর কুদরত নয় ?

আমাদের চারপাশের অনেক প্রাণী,  পরিবেশ ও প্রকৃতি তে আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ছড়িয়ে আছে । তারা সবাই আল্লাহ তাআলার হুকুম মানে এবং অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দেয়।‌ পবিত্র কুরআনে এসেছে,

তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে ? এবং আসমানের দিকে কিভাবে তা ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । পাহাড়ের দিকে কিভাবে স্থাপন করা হয়েছে?  আর ভূ-তলের দিকে কিভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে ? ( সূরা গাশিয়া , আয়াত নং ১৭-২০ )

মানুষ চেষ্টা- তদবির করলে অনেক কিছু করতে পারে । আল্লাহ তাআলার মারিফাত তথা পরিচয় পেতে পারে।

পবিত্র কুরআনের ঘোষণা- যারা আমার ব্যাপারে চেষ্টা করে আমি অবশ্যই তাদের পথ খুলে দেই । নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন । ( সূরা আনকাবুত, আয়াত নং ৬৯ )

আল্লাহর অলীদের পরিচয়ঃ

অলি একটি আরবি শব্দ । শব্দটির অর্থ হচ্ছে বন্ধু, মুরব্বি, অভিভাবক‌‌ ইত্যাদি।  অলির বহুবচন আওলিয়া ।  অলি শব্দটি সাধারণত অধ্যাত্মসাধক বা আল্লাওয়ালা দরবেশকে বুঝায় ।

ঈমানের দৌলত, আমলের জোর , তাকওয়া-পরহেজগারীর মাধ্যমে নারী-পুরুষ সবাই আল্লাহর অলি হতে পারে । ইতিহাসে ভুরি ভুরি নজীর আছে ।

আল্লাহর ওলী কারা

পবিত্র কোরআনের ঘোষণা, নিশ্চয় আল্লাহর অলিদের কোন ভয় নাই এবং তারা চিন্তিতও হবে না ।

আল্লাহ তাআলা অলী বুজুর্গদের সঙ্গে থাকা প্রসঙ্গে সূরা তাওবার ১১৯ নং আয়াতে আরো বলেছেনঃ হে ঈমানদারগণ !  আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের  অবলম্বন করো ।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ ইরশাদ করেন, যে আমার কোনো অলির সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা প্রদান করেছি। আমার বান্দা কোনো পুণ্যের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারবে না ফরজ ছাড়া।

আর ফরজের পর যদি সে সর্বদা নফল আদায় করে তাহলে আমার অধিক নৈকট্য অর্জন করতে পারবে। অবশেষে আমি তাকেই ভালোবাসতে থাকি। অতঃপর আমি তার কান হয়ে যাই, যার দ্বারা সে শুনতে পায়; আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়; আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা সে পাকড়াও করে; আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। আর সে যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে, আমি তাকে অবশ্যই তা প্রদান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় প্রদান করি। ( সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৬৫০২)

বাংলাদেশের‌ অলি আউলিয়া বেশির ভাগই চিশতিয়া, কাদেরিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়া তরিকার অনুসারী । এদের মধ্যে নেককার খাঁটি আল্লাওয়ালা যেমন আছে পাশাপাশি কিছু ভন্ড পীর ও আছে ।

ভান্ডারা মানুষের ঈমান- আমল নষ্ট করার পাশাপাশি অর্থকরী হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দায় আছে । তাদের থেকে সতর্ক থাকার জন্য আলেম-ওলামাগণ বারবার বলে আসছেন । অতএব সবাই সাবধান ।

 হক্কানি ওলামায়ে কেরামগণ হক্কানী পীরের ১০টি আলামত বর্ণনা করেছেন ।  নিম্নে উল্লেখ করা হলো

১. প্রয়োজন মাফিক ইলেম থাকতে হবে ।  যাতে অন্তত তিনি নিজেকে এবং মুরীদদেরকে ঈমান-আকিদা নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারেন।

২. আমল-আখলাক ও আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী হতে হবে।

৩. সুন্নতে নববী অনুসারী হতে। বিদআতী হলে চলবে না ।

৪. দুনিয়া বিমুখ হতে হবে এবং নিজে কামেল দাবি না করতে হবে।

৫. কোন কামেল পীরের কাছ থেকে অনুমতি প্রাপ্ত হতে হবে ।

৬. সমকালীন ন্যায় পরায়ন আলেম ওলামা  এবং শাইখগণ তাকে ভালো জানতে হবে ।

৭. তার সোহবতে কিছুকাল অতিবাহিত করার দ্বারা আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি এবং দুনিয়ার মহব্বত কম হচ্ছে এমন হতে হবে ।

৮. মুরীদদের অধিকাংশ শরীয়তের অনুসারী হতে হবে ।

৯. তালিম তালকিন ও শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে মুরিদদের অবস্থার উপর দয়া পরবশ হতে হবে এবং সৎ কাজের আদেশ ও‌ অসৎ কাজের নিষেধ করবে ।

১০. পীর সাহেব নিজেও জিকির-আজকার, অন্যান্য আমলে মশগুল থাকতে হবে ।

উপরোক্ত গুণাবলীর অধিকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কেবল আমররা বুজুর্গ হিসেবে জানবো ।‌ বুজুর্গ হওয়ার জন্য কারামাত প্রকাশিত হওয়া জরুরী নয় । আর কারো মত প্রকাশ করা বুজুর্গদের ইচ্ছাধীন কোনো বিষয় নয় ।

অতএব দেখেশুনে যাচাই-বাছাই করে আল্লাহ ওয়ালাদের চিনুন এবং তাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন।

পড়ুন – আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ হওয়ার উপায় 

 

শেষকথাঃ

আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে অনেক আলোচনা করলাম। আলোচনায় কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ। এবং কোন বিষয়ে পরামর্শ থাকলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন।

- Advertisement -