- Advertisement -

- Advertisement -

ইবাদতকে জীবন্ত করার কৌশল | দীদার মাহদী

1 101

- Advertisement -

ইবাদতকে জীবন্ত করার কৌশল

ইবাদত বা দাসত্বের জন্য মানব সৃষ্টি করা হয়েছে ৷ ইবাদত যখন করতেই হবে ৷ সময় যখন এর পেছনে ব্যয়িত হবে তখন ইবাদতগুলো জীবন্ত হওয়া দরকার ৷ ইবাদতে প্রাণ আসে কীভাবে? যে ইবাদতে স্বাদ বা আনন্দ নেই, সে ইবাদতে মূলত আগ্রহ পাওয়া যায় না ৷ এ কারণে ইবাদত-বন্দেগিতে খুলুসিয়ত তথা একাগ্রতার বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে আমলে খুলুসিয়ত তথা একনিষ্ঠ আমল করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
মহান আল্লাহ বলেন,

وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ﴿۵۶﴾

আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।
[সূরা যারিয়াত 56]

সুতরাং মানুষের উচিত ইবাদত এভাবে করা যাতে আমলে খুলুসিয়ত তথা ইবাদতে একনিষ্ঠতা তৈরি হয় ৷ কলবের মরিচিকা দূর হয় ৷ তাজকিয়া নফস তথা পরিশুদ্ধ আত্মা তৈরি হয় ৷ ঈমান বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন হয় ৷

যে পাপ লেখেন না ফেরশতারা

বিশ্বনবী হাদীসে বলেন,
قَالَ : «أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّه يَرَاكَ»

“তুমি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। আর তুমি যদি তাঁকে না-ও দেখো, তিনি তোমাকে অবশ্যই দেখছেন”।
[মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ২ ]

ইবাদতে প্রাণ আনার এবং ইবাদতকে জীবন্ত করার এটা অব্যর্থ ফর্মূলা ৷ একজন মুমিন যদি নামাজে দাঁড়িয়ে এটা চিন্তা করে যে, আমি আল্লাহকে দেখছি ৷ যার আদেশে এবং যার সন্তুষ্টির জন্য আমি সালাত আদায় করছি, আমি তাকে দেখছি ৷ যদিও এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ ৷ সাধারণত আল্লাহকে কোনো চাট্টিখানি কথা নয় ৷ এটা এক প্রকার অসাধ্য কাজ ৷ তবে দ্বিতীয়টা সম্ভব ৷ এবং এটাই করা উচিত ৷ আমার আদায়কৃত সালাত আমার মনিব দেখছেন ৷ সুতরাং এতে খুশুখুজু আনয়ন ৷ সালাতের হক আদায় ৷ বাজে ও কু চিন্তা দূরিকরণ ৷ অমনযোগিতা রহিতকরণ একান্ত জরুরি ৷ তবেই সালাত হবে পিওর ৷ অন্যান্য ইবাদতেও মজা পাওয়া যাবে ৷ পড়তে হবে তাই পড়লাম ৷ করতে হবে তাই করলাম ৷ এই নীতি পরিশুদ্ধ নয় ৷ এতে ইবাদতের খুলুসিয়াত থাকে না ৷

জীবন্ত ইবাদতে করণীয়-

আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে ভালোবাসা। আল্লাহর ভালোবাসা লাভে বা যে কাজে আল্লাহর ভালবাসা পাওয়া যাবে সে কাজে প্রাধান্য দেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন-

- Advertisement -

قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَ اللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۳۱﴾

বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।

[সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১]

আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ বিনয়-নম্রতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ বান্দা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধসমূহ পালনের মাধ্যমে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করবে। আর তাতেই বান্দা তার প্রভূর পরিপূর্ণ ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হবে। তার ইবাদত-বন্দেগি করতেও স্বাদ পাবে। আল্লাহ বলেন-

اُدۡعُوۡا رَبَّکُمۡ تَضَرُّعًا وَّ خُفۡیَۃً ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُعۡتَدِیۡنَ ﴿ۚ۵۵﴾

তোমরা তোমাদের রবকে ডাক অনুনয় বিনয় করে ও চুপিসারে। নিশ্চয় তিনি পছন্দ করেন না সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে।
[সুরা আরাফ : আয়াত ৫৫]

সুতরাং ইবাদতে পরিপূর্ণ স্বাদ লাভে করণীয়-

ইবাদত করবে গোপনে। বিনয়াবনত চিত্তে ৷ রোনাজারি করা ৷ কান্না না আসলে কান্নার ভান করা ৷ লোকে ইবাদতকারী হিসেবে সম্মান করবে এই নিয়্যত ইবাদত না করা। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করা। যা সম্ভব নয় এমন দুআ করা যাবে না। যেমন- নবী হওয়ার দোয়া ইত্যাদি। নামাজি এমনভাবে নামাজ পড়বে, যাতে পাশে স্বয়নকারী স্ত্রীও টের না পায়।

এমনভাবে কুরআন তেলাওয়াত করবে, যাতে অন্য কারও কাছে ক্বারী, হাফেজ কিংবা তেলাওয়াতকারী হিসেবে পরিচিতি প্রকাশ না পায়।

সর্বোপরি দুনিয়ার প্রতি কাজ হতে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। তাতে থাকবে না কোনো লোভ গর্ব ও অহংকার। আর অবশ্যই প্রতিটি কাজ হতে কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত কাজ। তবেই পাওয়া যাবে ইবাদতের স্বাদ।

লেখকঃ
দীদার মাহদী
ভাইস প্রিন্সিপ্যাল
দারুলহুদা মডেল মাদরাসা
কোদালপুর, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর ৷