- Advertisement -

- Advertisement -

কেনো এত হয়রানি? প্রশ্ন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক সরদারের

0 51

লক্ষ্য করুন ২৩-৩-২০২০ সকালে আমার মাকে নিয়ে আমি রাজধানীর বড় একটি সরকারী হাসপাতালে যাই ৷ এক মাস আগে আমার মা ঐ হাসপাতালে cardiac বিভাগে CCU তে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইমার্জেন্সিতে নেয়া মাত্র কোন কাগজ পত্র না দেখেই তারা বলেন আমার মা করোনা রুগী। মাকে এখানে সেখানে পাঠাতে চেষ্টা করেন। আমি কাগজপত্র দেখাই এবং বলি আমার মা এই হাসপাতালে এক মাসে আগে হার্টপেসেন্ট হিসাবে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাতেও ডাঃ দের মন গলাতে পারিনি।

এলাকার ছোট ভাই সেলিম আজাদের বউ ঐ হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ । ওকে ফোন করলে ও ইমার্জেন্সিতে ডিউটিরত ডাঃ কে বলে তারপর কাগজ পত্র দেখে ভর্তি করার কথা বলে। দুঃখের সাথে বলতে হয় ডাঃ নার্স, আয়া-বুয়ারা মাকে ধরে উঠানো নামানোর ব্যাপারে কোন সহযোগিতা পাই নি ৷ মার ইকো করার ব্যাপারে আমি, আমার বউ ও আমার ছোট ভগ্নিপতি মাকে বেডে তুলি। মার ইকো করে যখন দেখে মায়ের হার্টের অবস্থা খুব খারাপ ৷ তখন মাকে জরুরী ভিত্তিতে CCU তে পাঠায়।
CCU র ডাঃ নার্স, আয়া-বুয়ারাও সেই ইমার্জেন্সীর মত আচারণ শুরু করে।
ইতোমধ্যে এক ডাঃ কে বুঝাতে সক্ষম হই মা হার্টের পেসেন্ট। ১ মাস আগে এখানে ভর্তি ছিল। ইকো রিপোর্ট খুব খারাপ আসে ৷ মাকে proper ট্রিটমেন্ট দেওয়ার কথা বলি।
ডাঃ মাকে বিভিন্ন পরীক্ষা দেয়। সেগুলি করাতে চেষ্টা করি । ওষুধ দেয় ৷ খাওয়ানোর পরেও মার তেমন কোন পরিবর্তন দেখিনি । অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে ৷

এক সময় মার প্রচুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মায়ের হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায় । মার পালস কমে যায়। আমি বুঝতে পারি ৷ কিন্তু ডাঃ নার্সরা আবার করোনা মনে করে দুরে থাকে।

মাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য উপরের তলা icu তে পাঠায়। মাকে আই সি উ তে পাঠানোর সময় কোন নার্স, ডাঃ আমাদের সাথে যায় নি।আমরা নিজেরা মায়ের বেড টেনে আই সি উ তে নিয়ে যাই। এত ইমারজেন্সি রোগী আই সি উর গেটে ৷ তবু তারা ১৫-২০ মিনিট আটকিয়ে রাখে ৷ আবারও করোনা সন্দেহে। আমি সাধ্য মত চেচামেচি করায় গেট খুলে ও আইসিউর ভিতরে ঢুকানোর আগেই মার চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে। ডাঃ ভিতরে ঢুকিয়ে ১/২ টা ইনজেকশন করল। বুকে পাম্প করল ৷ কিছুক্ষণ পরে মৃত ঘোষণা করল।

মার ডেডথ সার্টিফিকেটে লিখল হার্টফেইলে মৃত্যু।

মার মরদেহ পাওয়ার পরে গোসল করানোর জন্য আঞ্জুমান মুফিদুলে গেলাম। তারা করোনার কারণে গোসল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। গোসল করাবে না।

প্রশ্ন হলো এ রকম কেন হবে ৷ একটি এত বড় হাসপাতালের ডাঃ নার্স সবাই এক করোনা সন্দেহে ভর্তি করবে না, চিকিৎসা করবে না, এদিক ওদিক পাঠিয়ে আরো হয়রানি করাবে। এর প্রতিকার কি???

- Advertisement -

লেখকঃ মোজাম্মেল হক সরদার, ব্যবসায়ী, ঢাকা ৷