- Advertisement -

- Advertisement -

গতিহীনের ইমামতি | দীদার মাহদী | শীর্ষবার্তা ডটকম

0 159

- Advertisement -

গতিহীনের ইমামতি
দীদার মাহদী

একটি কথা বেশ প্রচলিত ৷ যার নাই কোনো গতি, সে করে ইমামতি ৷ কখনো কখনো এর বাস্তবতা চোখে পড়ে ৷ কেউ আবার বলেন, যে পড়ে প্যাঁচে, সে আসে ম্যাচে ৷ এটারও বাস্তবতা আছে ৷ ইমামরা হচ্ছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ৷ তারা মুমিনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত সালাতে নেতৃত্ব দেন ৷ কিন্তু এই ইমামকেই তটস্থ থাকতে হয় মুসল্লীদের ভয়ে ৷ ইমাম সাহেবের প্রতিটি কদম মেপে মেপে দিতে হয় ৷ হাজারো চোখ তার দিকে তাক করা থাকে ৷ ভুলেও কোনো ভুল করা চলবে না ৷ চাকরি যাবে ৷ বেইজ্জতি হতে হবে ৷

ধীরে ধীরে মসজিদের উন্নতি হলেও ইমামের কোনো উন্নতি হয় না ৷ ছুটিছাটা নিয়ে এরা থাকে চরম বিব্রত অবস্থায় ৷ সারাদিন অবসর ৷ কিন্তু কোথাও বেরোবার ফুসরত নেই ৷ এক ওয়াক্ত সালাতে না থাকলেই অভিযোগ ওঠে ৷ ট্যাংকিতে পানি না থাকলে ইমামের খবর হয়ে যায় ৷ একজন খেটে খাওয়া চাষীও তাকে বকাঝকা করেন ৷ মসজিদ কমিটি এক আতঙ্কের নাম ইমামের কাছে ৷ খতীবকে তার খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করার আগে ভাবতে হয় বহুবার ৷ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ইমাম যে নেই তা নয় ৷ তবে তা হাতে গোণা ৷ একজন ইমাম আপোষহীন হলে বিলাই সেজে ইমামতি করার ইমামের অভাব নেই সমাজে ৷

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, প্রায় সব মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা সেবা করে যাচ্ছেন অল্প বেতনে। গার্মেন্ট, হোটেল বয়দের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন তারা। নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো থাকা সত্ত্বেও কার্যকর হচ্ছে না সে বেতন।

সুদের টাকা দিয়ে হজ করে এসে হচ্ছেন কমিটির সভাপতি। ছেলে প্রবাসী, প্রচুর টাকার মালিক। মসজিদ উন্নয়নের জন্য তাকেই করা হচ্ছে প্রধান। তারা সত্য আলোচনা করতে নিষেধ করে দিচ্ছেন।
বেনামাজী লোকও ক্ষমতার জোরে কমিটির উচ্চ পদে আসীন হয়ে আছেন ৷ তারাই যথেচ্ছ ব্যবহার করছেন ইমামের সাথে ৷ মুখ বুঁজে সয়ে যান ইমামরা ৷ অনেকে প্রতিবাদী হলে শেষমেশ চাকরিটা হারান ৷ আবার কোনো অনুগত ইমাম তারা খুঁজে নেন ৷

মসজিদ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জায়গা ৷ মসজিদের অত্যধিক ফজিলতের কারণেই আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে ২৮ জায়গায় এর আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা মসজিদকে তার নিজের দিকে সম্মানমূলক সম্মন্ধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَأَنَّ الـْمَسَاجِدَ لله فَلا تَدْعُوا مَعَ الله أَحَدًا

‘নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না।’ [সুরা জিন, ৭২ : ১৮]

আল্লাহ তায়ালা মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বহু ফজিলতের ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি এটাকে ইমানদারদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ

‘নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ইমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি এবং যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে ও জাকাত আদায় করে; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা সুপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ [সুরা তাওবা, ৯ : ১৮]

ইমাম শব্দের অর্থই হলো নেতা, লিডার ৷ কিন্তু ইমামের সে অবস্থান এখন নেই ৷ ইমামকে সালাত আদায়ে নেতা মানলেও সালাতের বাইরে তাকে কর্মচারীই ভাবে সমাজ ৷ এই চিন্তার দেয়াল ভেঙে ফেলতে হবে ৷ এক্ষেত্রে কতক ইমামদেরও জবাবদিহিতা রয়েছে ৷ সমাজে প্রচলিত আরেকটি প্রবাদের দিকে আপনার সচেতন দৃষ্টি নিচ্ছি ৷ বলা হয়, হাইল্লার শত্রু হাইল্লা, জাইল্লার শত্রু জাইল্লা ৷ এটা ইমামদের মাঝেও দেখা যায় ৷ তারা একে অপরকে শত্রু জ্ঞান করে ৷ একজনকে চাকরিচ্যুত করে সেখানে ঢুকতে চায় অন্যজন ৷ এজন্য ঘৃণ্য অনেক কাজও করে তারা ৷ ইমামের দোষ তালাশ ৷ তার নামে সত্য মিথ্যা প্রপাগান্ডা ৷ এমনকি একজন ইমাম দশ হাজারে চাকরি করলে, অন্যজন সেখানে আট বা তার কমেও চাকরি করতে রাজি বলে ধর্ণা দেয় ৷ আস্তাগফিরুল্লাহ!

ইমামরা ঐক্যবদ্ধ হলে মসজিদ কমিটি অন্যায় আচরণ করতে এতটা বেপরোয়া হতো না ৷ কিন্তু রিকশা চালকদের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম থাকলেও দুঃখজনক ইমামদের নাই ৷ তাই ইমামতির মত সম্মানজনক পেশাটাও আজ কলুষিত ৷

আজ যে কমিটি এক ইমামের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করল সে আপনার সঙ্গে করবে না এর নিশ্চয়তা কী? তাই ভেবেচিন্তে ইমামতি নিতে হবে। ইমামকে তার যোগ্যতার পাশাপাশি ইমামের গুণাবলি অর্জন করাসহ অতিরিক্ত কিছুদিন ইমাম হওয়ার প্রশিক্ষণ নেয়া জরুরি। সরকারের উচিত হতভাগা ইমামদের বিধিমালা কার্যকর করা।