ঘটনার_ঘনঘটা

লেখা - ফারহান সুমি

16 84

ঘটনার_ঘনঘটা

ফারহান সুমি 

ফাহি সেদিন কোন ভুল করেনি,একটা ভুলকে ভুল বলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলো মাত্র। অষ্টম শ্রেণীর মেয়েটি ক্লাস না করে স্কুলের বাইরে একটা ভবনে,ব্যাচেলরদের রুমে! সামনে ফাহির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, কলেজে এসেছিলো সামান্য নোট কালেকশন করতে। ফাহি অষ্টম শ্রেনীর মেয়েটার কথা টিচারকে জানিয়ে দিয়েছিলো মাত্র। কিন্তু,ব্যাচেলরগুলো পিছু নিয়েছিলো ফাহির। তারা জেনে গেলো ফাহি টিচারকে ডেকে এনেছে। “এই মেয়ে দাড়া! দাড়া বলছি। কি ক্ষতি করেছিলো তুর ওই মেয়েটা? কেনো বললি টিচার কে?” ব্যাচেলর রুমের গুন্ডা টাইপ ছেলেগুলা পিছু নিলো ফাহির। টিচার চলে গেলো অষ্টম শ্রেনীর মেয়েটিকে নিয়ে অফিস রুমে। ফাহি হেটে পথ শেষ করতে পারছে না আজ। আর নিষ্ঠুর মানুষগুলো কেউ ভ্রুক্ষেপ করছে না ওদের দিকে। কলেজ রোড,লাইব্রেরী, দোকানপাটে ভরপুর শত শত মানুষ। কেউ এগিয়ে আসছে না,জিজ্ঞাসাও করছে না ছেলেগুলো কেনো মেয়েটার পিছু নিলো?? ফাহি ভয়ে আরও জোরে হাঁটতে লাগলো। এক পর্যায়ে ছেলেগুলাকে বলতে শুনলো “এই গাড়ি নিয়ে আয় তো,উঠিয়ে নি গাড়িতে।” সত্যি নাকি ভয় দেখানোর জন্যে বলা! সেটা ফাহি বুঝতে পারছে না। কিন্তু ভয় হচ্ছে খুব। ভয়ে থর থর করে কাঁপছে সারা শরীর।এক বার পিছন ফিরে দেখলো কতদূর ছেলেগুলো। একজন কুচকুচে কালো, মোটা দেহের ছেলেকে দেখলো ফাহি। আশে পাশে আরও দু’চারজন। খুব দূরে না। এই বুঝি ধরে ফেললো।কি করবে ধরলে? এই রাস্তায়,এতো এতো মানুষের ভীড়ে সম্মানহানি হয় এমন কিছু করবে না তো! একরাশ দুশ্চিন্তা আর জোরছে হাটার প্রচেষ্টা একসাথে চালিয়ে যাচ্ছে সে…. পরিচিত দশ মিনিটের ছোট্ট রাস্তাটা আজ বিশাল ফাহির কাছে। কলেজের রাস্তাটার ঠিক শেষ প্রান্তে এসে হুটহাট করেই সিদ্ধান্ত নিলো আব্বুর প্রতি সন্ধ্যা কাটে যেহেতু এই দোকানে,এখানেই ঢুকে পরি। নেকাবের আড়ালে আমাকে না চিনলেও আব্বুর নাম বললে ঠিক’ই চিনে নিবে আর সাহায্যও করবে হয়তো। যেই ভাবা সেই কাজ,দোকানে ঢুকে পরলো ফাহি।দোকানটার নাম “আতিক স্টোর” আর দোকানদার আতিক আংকেল ফাহির আব্বুর ঘনিষ্ঠ লোক। আতিক আংকেলকে নিজের পরিচয় দিয়ে ছেলেগুলোর দিকে আঙুল দিয়ে যেই দেখালো ছেলেগুলো সাথে সাথেই উল্টো দিকে দিলো দৌড়। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো মেয়েটি আর মনে মনে ভাবলো বাড়ি গিয়ে বলা যাবে না কাউকে।কিন্তু ভয়ও হচ্ছিলো কারণ অন্যদিন কলেজে আসলে যদি একইভাবে হয়রানি করে? সামনে পরীক্ষা।কলেজ বন্ধ। কোচিং না হয় করলো না শেষের দু’তিন দিন। হয়তো ছেলেগুলো ভুলে যাবে সব। নিজেকে নিজে সান্তনা দিচ্ছিলো সে। আতিক আংকেলকে বলে একটা রিক্সা নিয়ে বাকি পথ রিক্সাতেই বাড়ি চলে গেলো। ঘটনা শেষ হয়ে যেতে পারতো,কিন্তু ঘটনা মাত্র শুরু! বাড়ি এসে নাস্তা করছিলো রহমান সাহেব। জোরে একটা ডাক দিলো ফাহি,,,, এই ফাহি। কলেজ থেকে ফেরার ঘটনাটার ভয় মন থেকে যায় নি। আব্বুর ডাকের সাথে সাথে ভয়ে কেঁপে উঠলো সে। দৌড়ে গেলো,, “কি হয়েছিলো আজ?” “ছেলেগুলা কে?” ভয়ে গড় গড় করে সব বললো ফাহি,উল্টো ফাহিকে খারাপ না ভাবে এই ভয়ে সব বুঝিয়ে বললো কলেজের পাশে ব্যাচেলর বিল্ডিং এ স্কুল ছাত্রীর কান্ড! এরপর রাগে গিজ গিজ করে বললো রহমান সাহেব,”সঙ্গে সঙ্গে বললি না কেনো আমায়?” =”আব্বু ভয়ে!আর ভাবলাম কি দরকার।” =”যা এখান থেকে” রোবটের মতো চলে এলাম। কি হবে,কি হতে যাচ্ছে একরাশ চিন্তা ফাহির মাথায়। আতিক আংকেলকে বিড় বিড় করে গালি দিচ্ছিলো সে,কেনো কথাটা বলে দিলো আব্বুকে। আতিক আংকেল তো ভালো করেই জানে আব্বু কেমন রাগী মানুষ। রহমান সাহেব সব জানার ঠিক দশ মিনিটের ব্যবধানে উনার বড় ছেলে বাইরে কোথায় থেকে যেনো হাঁপাতে হাঁপাতে এসে হুংকার দিয়ে ডাকা শুরু করলো, ফাহি…এই ফাহি! এদিকে আয়! অতি মাত্রায় রেগে থাকার কারণে কাঁপছে আর হাঁপাচ্ছে ফয়সাল। এ চরম অপমান আর খুবই লজ্জার! তার বোনকে রাস্তায় কেউ ধাওয়া করেছে। ফয়সালের প্রথম প্রশ্নই ছিলো তোর কোন দোষ নেই তো? মানে অন্য কোন কাহিনী যেটা না বলে মিথ্যা এই কাহিনী বলছিস না তো? ফাহির ফয়সালের প্রশ্ন শোনেই রাগ হলো খুব আর সেও দ্বিগুণ চিল্লানি দিয়ে বললো “অন্য কাহিনী আবার কি?” “মিথ্যা বলতে যাবো কেনো?” ফয়সাল বললো,তোর যদি দোষ না থাকে তো ভালোই,আর দোষ থাকলে সেটাও বেড়িয়ে যাবে। দেখে নিবো আমি ওই হারামির বাচ্চাগুলাকে আর তোর কোন আকাম কুকামের কাহিনী থাকলে তোরও খবর আছে। ওই ব্যাচেলর বিল্ডিং এ কে বা কারা থাকে আমার জানা আছে। আমি শীঘ্রই ছবির ব্যবস্থা করতেছি সবার।একজনকে চিনলেও যথেষ্ট হবে আমার জন্যে। ফাহি জানতো কোন দোষ না থাকলেও প্রত্যেক ঘটনায় মেয়েদের দোষ ধরার জন্যে এক দল লোক থাকেই সমাজে। তার ঘাড়ে কোন না কোন দোষ আসবেই এই ঘটনায়। তাই সে গোপন রাখতে চেয়েছিলো, চেয়েছিলো এতটুকুতেই সব শেষ করে দিতে। কিন্তু, নিজের ঘরের মানুষগুলাই কেমন বাঁকা চোখে দেখছে। অসহ্য লাগছে ফাহির। দুই দিন পর বান্ধবীর ফোন পেয়ে কলেজে যেতে হলো ফাহিকে। কলেজ গেইটে ঢুকতেই দেখে এলাহি কান্ড! ব্যাচেলর বিল্ডিং এর অর্ধের ভাঙ্গা শেষ। উচ্ছেদ করার নটিশ দেয়া হয়েছে মালিককে। এক সপ্তাহের মধ্যেই যেনো ভঙ্গা হয়। ফাহির বুঝতে বাকি রইলো না এটা ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই করা হচ্ছে আর অবশ্যই আব্বুর নির্দেশেই। এদিকে ক্লাসে টিচারদের চোখে মুখে বিস্ময়! স্কুল ছাত্রীর ঘটনা এখন কলেজের কোন কোন টিচার জানে রহমান সাহেবের মেয়ের ঘটনা হিসেবে। ফাহির অনুপস্থিথিতে ভালোই আলোচনা হয়েছে ক্লাসে। বান্ধবীদের কাছ থেকে এসব শোনে মনটা ভার হয়ে গেলো। এদিকে ক্লাসের অন্য মেয়েরাও ফুসুরফাসুর করছে,অনেকে আবার সংকোচ নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেছে ” কি’রে ফাহি, ব্যাচেলর বিল্ডিং এর কাহিনি সত্যি নাকি?” মানে অধিকাংশ ছাত্রী আর শিক্ষার্থীরা জানে ফাহি ধরা খেয়েছে ব্যাচেলর রুমে। তাই ফাহির বাবার প্রভাবে বিল্ডিং ভাঙ্গার নির্দেশ। ছেলেগুলাও ধরা পরলে রক্ষা পাবে না। ঘটনার চতুর্থ দিন। ফয়সাল অনেকগুলো ছবি মেলে ধরলো ফাহির সামনে। ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আবার কিছু কিছু ক্রিকেট খেলার মাঠে ছেলেদের দল বেধে তোলা ছবি, অনেকের একা ছবিও আছে। এই ছেলেগুলোর অনেকেই ব্যাচেলর বিল্ডিং এ থাকতো অনেকেই দিনে-রাতে অন্যত্র থেকে এসেও আড্ডা দিতো। ফাহির খুব ভয় হচ্ছিলো। কারণ ভুল কেউ যদি শাস্তি পেয়ে যায়

- Advertisement -

ফাহি একবার মাত্র সেদিন পিছন ফিরে তাকিয়েছিলো। আর কালো মোটা একটা ছেলেকেই দেখেছিলো। এখন যদি চিনতে না পারে! ফয়সালের মধ্যে দারুণ অস্থিরতা। বের করেই ছাড়বে আর শাস্তি তাদের দিবেই। ঠিক ঠিকই সেই গায়ের রং কালো আর মোটা স্বাস্থ্যের একজন কে দেখলো ছবিতে এবং চিনতেও তেমন কষ্ট হলো না যে এটাই সেদিনের সেই পিছু নেওয়া ছেলেগুলার একজন। “ভাইয়া এই সেই ছেলেটা” ফাহিকে বার বার জিজ্ঞাসা করে আশ্বস্ত হয়ে নিলো ফয়সাল, “ভালো করে দেখে বল,এই ছেলেটাই ছিলো ত?” ফাহি আবারও ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো। ফয়সাল এক মুহুর্ত দেরি না করে হন হন করে বেরিয়ে পরলো ছেলেটাকে ধরতে।এই একজন স্বীকার করলে বাকিদের নামও সামনে চলে আসবে। পাশের গ্রাম রসূলপুরের নাকি এই ছেলেটা।ফুফুর বাড়ির পাশেই বাড়ি। নাম মামুন। ভাইয়াদের সাথে ক্রিকেট খেলেছে অনেকবার। চাচাতো ভাই ফাহিম তথ্যগুলো দিয়ে ফয়সাল ভাইয়ার পিছু পিছু বেরিয়ে গেলো। মাত্র এক সপ্তাহ পর পরীক্ষা। পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ফাহির অথচ কি এক ঝামেলার মধ্যে পরে গেলো সে। চিন্তায় দুপুরের খাবারটাও ঠিক মতো করতে পারেনি ফাহি। ফয়সালের কোন খবর পাচ্ছে না,ভয়ে কল দিচ্ছে না। নিজে নিজে চিন্তা করতে করতে একাকার। সবচেয়ে খারাপ লাগার ব্যাপার হলো এই ঘটনায় তাকে জড়িয়ে না জানি আরও কত রটনা রটে! বিকাল প্রায় হয়ে এলো,সূর্যের আলো আড়াআড়ি ভাবে ঘরের দেয়ালে এসে পরেছে। কড়া রোদেও হালকা ঠান্ডা বাতাস হঠাত খেলে যাচ্ছে দোল। কড়া রোদ,ঝুম বৃষ্টি,কন কনে ঠান্ডা আবার কখনো রোদ বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা, প্রকৃতির সব রূপই উপভোগ করা যায়। এর জন্যে প্রয়োজন প্রশান্ত মন। কোন চিন্তা থাকবে না, অভিযোগ, অনুযোগ থাকবে না আর থাকবে না অপ্রাপ্তি নিয়ে হতাশা। ফাহির মন তো এমনই ছিলো।

আরো পড়ুন – মানুষ কেন শ্রেষ্ট

সে সব উপভোগ করতো,সব। কিন্তু আজকাল অদ্ভূত অনুভূতি খেলে যায়,অদ্ভূত আশংকা আর ভীতি নার্ভ সিস্টেম দুর্বল করে দেয়। হঠাত করে এতো মিথ্যা অপবাদ। তার উপর আজ কি হবে,আজকের ঘটনার পর কি হবে? কত পারিবারের মনে প্রতিশোধের ক্ষোভ। কারণ,মেয়ে ধর্ষিত কিছু কুলাঙ্গারের হাতে। কখনো কখনো ধর্ষণ করে মেরে ফেলার মতো লোমহর্ষক ঘটনা। বেশির ভাগই ভুক্তভোগীর কান্নার জলে ইতি ঘটে যায় ঘটনার। বিচার হয় না অপরাধীর। দু চার দিন থাকে মানুষের চর্চায়। এরপর? আবার সবাই যে যার মতো। অল্প সংখ্যক শাস্তি পে
ভুক্তভূগী মনের মধ্যে প্রতিশোধের ক্ষোভ নিয়েই জীবন পার করে দেয়। সেদিন ফাহিও যদি বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব রহমান সাহেবের মেয়ে না হয়ে সাধারণ পরিবারের মেয়ে হতো ওই হায়েনার দল থেকে রক্ষা জুটতো না কপালে।সেদিন না হয় পরের যেকোন দিন শিকার হতো সে তাদের হাতে। কিন্তু আজ সে বিভিন্নভাবে বিচার পাচ্ছে। ব্যাচেলর বিল্ডিং ভাঙ্গা হলো, কেনো?? এই ঘটনায় রহমান সাহেবের মেয়েকে উত্যক্ত করা হয়েছে বলে। কিন্তু, আগেও এমন অজস্র মেয়ে লাঞ্চিত হয়েছিলো কেউ ইচ্ছায় কেউ বাধ্য হয়ে ফাঁদে পরতো ওই বিল্ডিং এর যুবকদের হাতে। তখন কেনো এই পদক্ষেপ নেয়া হয়নি? তখন কেনো, মহিলা স্কুল কলেজের সামনে কোন ব্যাচেলর বিল্ডিং থাকতে পারেনা এই নীতিটা ছিলো না? এভাবেই ক্ষমতার বলে বলীয়ানরা ভোগ করছে সুযোগ সুবিধা,ন্যায় বিচার সব’ই। ফয়সাল মামুনকে এনে দাড় করালো ফাহির সামনে। শেষ বারের মতো জিজ্ঞাসা করলো “এই ছেলেটাই কি?” ফাহি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মারা শুরু। পায়ে দুই তিন আঘাত দেয়ার সাথে সাথে ফয়সালকে তার আম্মু বাধা দিলো। পুরো বাড়িতে মানুষ জড় হয়ে গেলো।

 

আরো পড়ুন  –  মাইকে আজান বন্ধের নির্দেশ

মা কান্না করে দিলো নিজের ছেলের এমন নিষ্ঠুর আচরণে।কেঁদে কেঁদে বললো “এই ছেলেটাও তো কোন মায়ের সন্তান,এভাবে মারিস না ফয়সাল। আল্লাহ সইবে না।” ফয়সাল তখন মামুন আর তার সঙ্গীদের কৃতকর্মের বর্ণনা দিলো, “এই ছেলেগুলো দল বেধে কলেজ রোডে এসবই করে মা,আজ তোমার মেয়ের ধর্ষণ হয়নি বলে তুমি ভালো সাজতেছো। কত মেয়ের জীবন যে এরা নষ্ট করেছে। মেয়ের মা বাবারা টেনশনে থাকে মেয়ে স্কুল কলেজে গেলে এই শয়তানগুলোর জন্যেই। উপযুক্ত প্রমাণ আর সুযোগ পাচ্ছিলাম না বলেই এরা এলাকায় থাকতে পারে। এই ঘটনায় জড়িত একটাকেও এলাকায় থাকতে দিবো না। এভাবেই এদের নষ্টামি মূল থেকেই নির্মূল করতে হবে।” মা বোনের অনুরোধে আর মারধর করেনি ফয়সাল। মামুন ফাহির পায়ে ধরে মাপ চাই। ফাহিকে বলতে অনুরোধ করে “প্লিজ বলেন মাপ করে দিয়েছেন, মাপ করে দিয়েছেন…. ফাহি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে “হ্যাঁ, মাপ করে দিয়েছি,পা ধরতে হবে না।” এরপর সবাই ইউনিয়ন পরিষদের দিকে রওনা দেয়। মামুনের সঙ্গিদেরও সেখানে হাজির করা হয়।

- Advertisement -