ঘুমানোর আগের আমল । মাওলানা শরিফ আহমাদ

31

ঘুমানোর আগের আমল

ঘুম আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ একটি নেয়ামত। ঘুমের মাধ্যমেই ক্লান্তি দূর হয় । শরীর সুস্থ ও সবল থাকে । দিন কিংবা রাত যখনই ঘুমানোর প্রয়োজন অনুভব হবে তখনই ইসলামী কিছু নিয়ম এবং আমল করা উচিত । এতে যেমন ঘুম ভালো হবে পাশাপাশি ঘুম ইবাদাতে পরিণত হবে । তাই এখানে ঘুমানোর আগের আমলগুলো ক্রমিক দিয়ে উল্লেখ করা হচ্ছে ।

সূচিপত্র

ঘুমানোর আগের আমল

 

ঘুমের আগে অযু করা

 

ইসলামে অযু একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল । পবিত্রতা হাসিলের বড় একটি মাধ্যম । তাই ঘুমানোর পূর্বে অজু করে নেওয়া উচিত। অর্থাৎ অজুর সহিত ঘুমানো উচিত । এ সম্পর্কে স্পষ্ট হাদীস এসেছে। হযরত বারা ইবনে আযিব রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করবে, তখন নামাজের ন্যায় অজু করে ডান কাত হয়ে শয়ন করবে।

( বুখারী ও মুসলিম)

পড়ুন – অনলাইনে ইনকাম ২০২২ ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায় 

অজু করে ঘুমানোর ফজিলত

 

যে ব্যাক্তি পবিত্রবস্থায় ( অযু্ অবস্থায়) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। অতঃপর সে ব্যাক্তি ঘুম থেকে জেগে ওঠার সাথে সাথেই আল্লাহর কাছে ফেরেশতাটি প্রার্থনা করে বলে , হে আল্লাহ! তোমার উমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা সে পবিত্রবস্থায় ঘুমিয়েছিল। ( সহীহ ইবনে হিব্বান)

 

 

ঘুমানোর দোয়া পড়া

 

ঘুমানোর পূর্বের দোয়া (১)

 

اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيَا

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বি-ইসমিকা আমুতু ওয়া আহয়া ‌।

অনুবাদ: হে আল্লাহ! আমি আপনারই নামে মৃত্যুবরণ করব এবং আপনারই নামের সাথে জীবিত থাকব।

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩১৪ ও ৬৩২৫)

 

ঘুমানোর পূর্বের দোয়া

 

بِاسْمِكَ رَبِّـىْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ وَبِكَ اَرْفَعُهٗ اِنْ اَمْسَكْتَ نَفْسِيْ فَاغْفِرْلَهَا وَاِنْ اَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِه عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ.

বাংলা উচ্চারণ: বিসমিকা রব্বি ওয়া-দতু জানবি,ওয়া বিকা আরফাউহু ইন আম-সাকতা নাফসি ফাগফির লাহা ,ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজাহা বিমা তাহফুজু বিহি ইবাদাকাস সলিহীন ।

 

অনুবাদ: হে আমার রব! আমি আমার শরীরকে আপনার নামে বিছানায় রাখলাম (শয়ন করলাম) এবং আপনারই নামে বিছানা থেকে উঠাবো। আপনি যদি ঘুমের মধ্যে আমার নফসকে উঠিয়ে নেন তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যদি না উঠিয়ে নেন তাহলে তাকে আপনার নেক বান্দাদের মত হিফাজত করবেন।

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩২০)

 

ঘুমানোর পূর্বের দোয়া ( ৩)

 

 

اَللّٰهُمَّ اَسْلَمْتُ وَجْهِيْ اِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ اَمْرِيْ اِلَيْكَ وَاَلْجَاْ تُ ظَهْرِيْ اِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً اِلَيْكَ لَا مَلْجَاَ وَلَا مَنْجَاَ مِنْكَ اِلَّا اِلَيْكَ اَللّٰهُمَّ اٰمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِيْ اَ نْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِيْ اَرْسَلْتَ.

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহি ইলাইকা ,ওয়া ফাও ওয়াদতু আমরি ইলাইকা,ওয়াল জাতু জহরি ইলাইকা রগবাতান ,ওয়া রহবাতান ইলাইকা লা মালজা ওলা মানজায়া মিনকা ইল্লা ইলাইকা , আল্লাহুম্মা আমানতু বিকিতাবিকাল্লাজি আনঝালতা ,ওনা বিয়্যিকাল্লাজি আরসালতা ‌।

 

অনুবাদ: হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারা (আত্মাকে) আপনার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আমার সকল কর্ম আপনার উপর সোপর্দ করলাম এবং আমি আমার পৃষ্ঠ আপনার নিকট অর্পণ করলাম আপনার রহমতের প্রত্যাশায় এবং আপনার আযাবের ভয়ে। আর আপনার রহমতের আশ্রয় ও পানাহ ছাড়া অন্য কোন আশ্রয়স্থল নাই। হে আল্লাহ! আপনার অবতীর্ণ কিতাবের উপর ঈমান আনলাম এবং আপনার প্রেরিত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ঈমান আনলাম।

(সহীহ বুখারী হাদীস নং ২৪৭)

 

 

৩ নং আমল তাসবীহে ফাতেমী পড়া ।

 

অর্থাৎ سُبْحَانَ اللهِ

(আল্লাহ পূত-পবিত্র) ৩৩ বার। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ

(সকল প্রশংসা আল্লাহর) ৩৩ বার। اَللهُ اَكْبَرُ

(আল্লাহ সবচেয়ে বড়) ৩৪ বার পাঠ করা।

 

 

তাসবীহে ফাতেমীর ফজিলত:

 

১. হযরত আলী রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত । তিনি বলেন, হযরত ফাতেমা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট একজন খাদেম চাইতে গেলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যা চেয়েছ আমি কি তোমাকে তার চেয়ে উত্তম জিনিসের কথা বলে দিবো না? তুমি ঘুমানোর পূর্বে সুবহাানাল্লাাহ ৩৩বার, আলহামদুলিল্লাাহ ৩৩ বার, আল্লাাহু আকবার ৩৪ বার পড়বে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৪৭)

 

২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঘুমানোর পূর্বে উপরোক্ত তাসবীহগুলো পাঠ করবে সে এক হাজার নেকী পাবে। (সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ১৩৪৭)

 

৪ নং আমল আয়াতুল কুরসী পড়া।

 

আয়াতুল কুরসী আরবী

 

اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُہٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوۡمٌ ؕ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَہٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ ۚ وَلَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِہٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ کُرۡسِیُّہُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ ۚ وَلَا یَـُٔوۡدُہٗ حِفۡظُہُمَا ۚ وَہُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ (আল বাকারা – ২৫৫)

 

আয়াতুল কুরসী বাংলা উচ্চারণ:

 

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া ,আল হাইয়্যুল কাইয়্যুম,লা তা খুযুহু সিনাতুও ওয়ালা নাওম ,লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদি, মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বিইযনিহী ,ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহীম ওয়ামা খলফাহুম ,ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইইম মিন ইলমিহী ইল্লা বিমা শাহায়া ,ওয়াসি আ কুরসিয়্যুহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদা,ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজীম ।

 

আয়াতুল কুরসীর ফজিলত:

 

১.হযরত আবু উমামা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে আর কিছু তার জান্নাতে প্রবেশের পক্ষে অন্তরায় নেই । অর্থাৎ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে । ( সুনানে নাসায়ী ,তাবারানী ও সহীহ ইবনে হিব্বান )

 

২. হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কতৃক বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসের একাংশে উল্লেখ করা হয়েছে-

 

اذا اويت الى فراشك فاقرا اية الكرسي الله لا اله الا هو الحي القيوم حتى تختم الآية فانك لن يزال عليك من الله حافظ ولا يقربك شيطان حتى تصبح.

 

অনুবাদ: যখন তুমি বিছানায় যাবে‌ তখন আয়াতুল কুরসি‌ – اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡم

 

থেকে আয়াত শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে । তাহলে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার নিকট হেফাজতকারী থাকবে এবং শয়তান তোমার কাছে আসতে সক্ষম হবে না । (সহীহ বুখারী , হাদীস নং ২৩১১ )

৩. হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি জিনিসের একটি চূড়া থাকে কোরআনের সূরা সূরা বাকারা । তাতে এমন একটি আয়াত আছে যা কোরআনের অন্য আয়াতের নেতা । সেটা হলো আয়াতুল কুরসি । (সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং ৩১১৯)

 

 

৫ নং আমল সূরা বাক্বারার শেষ দুটি আয়াত পড়া।

 

 

لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِنْ تُبْدُوْا مَا فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ اَوْ تُخْفُوْهُ یُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللهُ ؕ فَیَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۲۸۴﴾ اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَاِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلٰٓئِکَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ * لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ * وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭ غُفْرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیْکَ الْمَصِیْرُ ﴿۲۸۵﴾ لَا یُکَلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتْ وَعَلَیْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا کَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَاعْفُ عَنَّا * وَاغْفِرْ لَنَا * وَارْحَمْنَا * اَ نْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ ﴿۲۸۶﴾

 

সূরা বাক্বারার শেষ দুটি আয়াতের ফজিলত:

 

১. যে ব্যাক্তি সূরা বাক্বারার শেষ তিন আয়াত ঘুমানোর আগে পড়বে। ঐ রাতে ঘুমের কারণে সে যদি তাহাজ্জুদ নামায পড়তে না পারে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাহাজ্জুদ পড়ার নেকী দান করবেন।

ঘুমানোর আগের আমল
ঘুমানোর আগের আমল

২.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়বে, ঐ ব্যক্তির জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে। (অর্থাৎ জিনের ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি, সকল পেরেশানি ও মুছিবত থেকে হেফাজতের জন্য যথেষ্ট হবে। কারো কারো মতে রাতের সকল ওজিফার জন্য যথেষ্ট হবে)

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪০০৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৭৮)

 

৬ নং আমল তিন কুল পাঠ করা।

 

তিন কুল অর্থাৎ সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস ৩ বার করে পড়ে হাতে ফুঁক দিয়ে শরীরের সম্মুখ ভাগে মুছে দেওয়া। এ সম্পর্কে স্পষ্ট হাদীস এসেছে ।

প্রতি রাত্রে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয্যা গ্রহণকালে সূরা ইখলাস ,সূরা ফালাক, সূরা নাস পাঠ করে দুহাত একত্রিত করে হাতে ফুঁক দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন । মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তার দেহের সম্মুখভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন । ( সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৬৫২)

ফজর ও মাগরিব‌ এই দুই ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতিটি তিনবার করে পড়া সুন্নাত । অন্যান্য ফরজ নামাজ আদায় করে একবার করে এই তিন সূরা পড়ার কথা বলা হয়েছে । (আবু দাউদ )

 

সুরা ইখলাস আরবী

 

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ – اللَّهُ الصَّمَدُ – لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ – وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ.

সূরা ইখলাস বাংলা  উচ্চারণ:

কুলহু আল্লাহু আহাদ । আল্লাহুস সমাদ । লাম ইয়ালিদ ওয়া লামউলাদ । ওয়া ইয়া কুল্লাহু কুফু ওয়ান আহাদ ।

 

সুরা ফালাক আরবী

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ – مِن شَرِّ مَا خَلَقَ – وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ – وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ – وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

সুরা ফালাক বাংলা 

উচ্চারণ:

কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক । মিন শাররি মা খলাক । ওয়া মিন শাররি গসিকীন ইযা ওয়াকাব । ওয়া মিন শাররিন নাফফা ছাতি ফিল উকদ । ওয়া মিন শাররি হা সিদিন ইযা হাসাদ ।

 

সুরা নাস আরবী

 

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ – مَلِكِ النَّاسِ – إِلَهِ النَّاسِ – مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ – الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ – مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ.

সুরা নাস বাংলা উচ্চারণ:

কুল আউযু বিরব্বিন নাস ‌। মালিকিন নাস । ইলাহিন নাস । মিন শাররিল ওয়াস ওয়াসিল খন্নাস । আল্লাযী ইউওসয়িসু ফি সুদুরিন নাস । মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস ।

 

৭ নং আমল সূরা কাফিরুন পড়া।

 

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا الۡکٰفِرُوۡنَ ۙ ‌ لَاۤ اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ۚ وَلَاۤ اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡ ۙ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ ؕ

لَکُمۡ دِیۡنُکُمۡ وَلِیَ دِیۡنِ ٪

 

অনুবাদ: বলুন, হে কাফেরকূল,আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি ।এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

 

সুরা কাফিরুনের ফজিলত:

 

১. হযরত জাবির রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম তাওয়াফের পর ফজরের দুই রাকাত সালাতে সূরা কাফিরুন এবং সূরা ইখলাস পাঠ করতেন । ( সহীহ মুসলিম ২/৮৮৮)

ঘুমানোর আগের আমল
ঘুমানোর আগের আমল

২. হযরত ফারওয়াহ ইবনে নাওফেল রহ: তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নওফেল কে বললেন, তুমি কুলয়া আইয়্যিহাল কাফিরুন পরে ঘুমাবে । কারণ এই সুরাটি হচ্ছে শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা । (আবু দাউদ, (তাবারানি))

৩. একবার সূরা কাফিরুন পড়ার সওয়াব কোরআনের এক চতুর্থাংশের সমান অর্থাৎ চার বার পড়লে এক খতমে কুরআনের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে । ( জামে তিরমিজি, হাদীস নং ২৮৯৩)

 

 

৮ নং আমল সূরা মুলক পাঠ করা

 

পবিত্র কুরআনের ২৯ তম পারার ৬৭ নং সূরা হলো মূলক । এটি মক্কায় নাযিল হয়েছে । আয়াত ৩০টি এবং রুকু দুইটি । এই সুরাটি প্রত্যেক রাতে ইশার পরে পাঠ করতে হয় ।

 

সুরা মূলকের ফজিলত:

 

১. হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কুরআনে কারীমের ত্রিশ আয়াতের এমন একটি সূরা আছে যা আপন পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকে যতক্ষন না তাদের মাগফিরাত করে দেওয়া হয়, সেটা হল সূরা তাবারাকাল্লাযী (সূরা মুলক)। (তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৯০)

 

২.হযরত জাবের রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাতেন না যতক্ষণ না সূরা আলিফ লাম মীম সিজদাহ এবং সূরা মুলক পড়ে নিতেন। (তিরমিযী, হাদীস নংঃ ২৮৯২)

 

৩. হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুমা থেকে বর্ণিত । রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার মন চায় যে, প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে সূরা মুলক থাকুক। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ২১১৬)

 

 

 

ঘুমানের আগের আমল সূরা আলিফ লাম মীম সাজদাহ পড়া।

 

পবিত্র কোরআনের ৩২ নম্বর সূরা হল সূরা সাজদাহ অর্থাৎ সূরা আলিফ লাম মীম সাজদাহ । এই সুরাটি মক্কায় নাযিল হয়েছে । আয়াত ৩০ টি এবং রুকু ৩ টি ।

এই সুরাটি প্রত্যেক রাতে পরে ঘুমাতে যাওয়া উচিত ।

 

সুরা সাজদাহ এর ফজিলত:

 

১. হযরত জাবের রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ততক্ষণ পর্যন্ত বিছানায় শুতে যেতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত সূরা তাবারাকাল্লাযী ও সূরা আলিফ-লাম-মিম-সিজদাহ তিলাওয়াত না করতেন। (মুসনাদে আহমদ ,৩/৩৪০) ফাযায়েলে কুরআন-হাদীস নং- ৪, পৃষ্ঠা-২৭৬)

২. যে ব্যক্তি সূরা তাবারাকাল্লাযী ও সূরা আলিফ-লাম-মিম-সিজদাহ তিলাওয়াত করে সে যেন লাইলাতুল কদরের রাতে জেগে ইবাদত করে। (ফাযায়েলে আমল-ফাযায়েলে কুরআন-হাদীস নং- ৪, পৃষ্ঠা-২৭৬)

৩. যে ব্যক্তি সূরা তাবারাকাল্লাযী ও সূরা আলিফ-লাম-মিম-সিজদাহ তিলাওয়াত করে তার জন্য সত্তরটি সওয়াব লিখা হয় সত্তরটি গুনাহ মাফ করা হয়। (ফাযায়েলে আমল-ফাযায়েলে কুরআন-হাদীস নং- ৪, পৃষ্ঠা-২৭৬)

 

 

ঘুমানের পূর্বের আমল সুরা দুখান‌ পাঠ করা।‌

পড়ুন – অনলাইনে ইনকাম ২০২২ ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায় 

 

পবিত্র কুরআনের ৪৪ নং সুরা হলো দুখান। এটি মক্কায় নাযিল হয়েছে । আয়াত ৫৯ এবং রুকু ৩টি ।

এই সুরাটি প্রত্যেক রাতে পাঠ করে নবীজি ঘুমাতেন।

 

সূরা দুখানের ফজিলত:

 

হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাতে যে ব্যাক্তি সূরা দখান পড়ে ঘুমাবে, সে এমনভাবে সকাল করবে, সত্তর হাজার ফেরেস্তা তার ক্ষমার জন্য দু‘আ করতে থাকবে। (সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং- ২৮৮৮)

২. হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুম‘আর রাতে যে সূরা দুখান পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং- ২৮৮৯)

 

 

১১ নং আমল সুরা ইয়াসিন পাঠ করা।

 

পবিত্র কোরআনের ২৩ তম পারায় ৩৬ নাম্বার সুরা হলো সুরা ইয়াসিন। মক্কায় নাযিল হওয়া এই সুরায় ৮৩ টি এবং ৫ টি রুকু রয়েছে । এই সুরা কুরআনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা । এটাকে কুরআনের হৃদয় বলা হয়েছে। এই সুরার অসংখ্য ফজিলত আছে । সকলের মুখস্থ রাখা উচিত। নিয়মিত তেলাওয়াত করা দরকার। নিম্নে সুরা ইয়াসিনের ফজিলত সম্পর্কে দুটি হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে।‌

 

১.হযরত জুনদুব রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য কোন রাতে সূরা ইয়াসীন পড়ে তাকে মাফ করে দেওয়া হয়। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ২৫৭৪)

 

২. হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক জিনিসের একটি অন্তর আছে আর কুরআনের অন্তর হচ্ছে সূরা ইয়াসীন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসীন পাঠ করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে দশ খতম কুরআন পাঠের সাওয়াব দান করেন। (তিরমিযী হাদীস নং ২৮৮৭)

 

 

গ্রন্থনা: মাওলানা শরিফ আহমাদ

লেখক ও শিক্ষক

 

- Advertisement -