মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

862

- Advertisement -

মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

 

 

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ ৷ সুপ্রিয় পাঠক কেমন আছেন? আজ আমরা সমাজে প্রচলিত একটি বিতর্ক নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা আপনাদের দিতে চলেছি ৷  মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ ৷ সমাজের দুটো গোষ্ঠী তুমুল বাকযুদ্ধে লিপ্ত ৷ কেউ মাযহাব মানার পক্ষে ৷ কেউ মাযহাব মানার বিপক্ষে ৷ কেউ মাযহাব মানাকে ফরয বলছেন ৷ কেউ মাযহাব মানা কে বিদাত বলছেন ৷ হারাম বলছেন ৷ আমাদের জানা দরকার মাযহাব মানা আসলে কি ৷ মাযহাব মানা কি জরুরী ৷ মাযহাব মানার আবশ্যকতা কি ৷ বক্ষমান নিবন্ধে এর বিস্তারিত জবাব পাবেন ৷ তাই দেরি না করে চলুন আর্টিকেলটি পড়া শুরু করি ইনশাআল্লাহ ৷

মাযহাব কি?

 

মাযহাব জানার আগে জেনে নিই মুজতাহিদ কে?  মুজতাহিদ হল কুরআন সুন্নাহ, সাহাবাদের ফাতওয়া, কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের ঐক্যমত্বে এবং যুক্তির নিরিখে কুরআন সুন্নাহ থেকে মাসআলা বেরকারী গবেষক দলের নাম। যারা নিষ্ঠার সাথে বিভিন্ন মূলনীতি নির্ধারণ করে কুরআন সুন্নাহর বাহ্যিক বিপরীতমুখী মাসআলার মাঝে সামাঞ্জস্যতা এনেছেন।

কুরআন সুন্নাহর একাধিক অর্থবোধক শব্দের নির্ধারিত পালনীয় অর্থকে নির্ধারিত করে দিয়েছেন। নতুন উদ্ভূত মাসআলার শরয়ী মূলনীতির আলোকে সমাধান বরে করেছেন। সেই সাথে নতুন নতুন মাসআলার কোন মূলনীতির আলোকে হুকুম আরোপিত হবে যার বিধান সরাসরি কুরআন সুন্নাহে বর্ণিত নেই, সেই মূলনীতিও নির্ধারিত করেছেন। মূলত সেই গবেষক দলের নাম হল মুজতাহিদ। আর তাদের উদ্ভাবিত মূলনীতির আলোকে বের হওয়া মাসআলার নাম মাযহাব। এবার মাযহাব মানে বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই ৷

মাযহাব মানার প্রয়োজন কেন?

 

মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ
মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

সাধারণত প্রত্যেকটি ব্যক্তির পক্ষে সরাসরি কুরআন হাদীস থেকে সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়ােজনীয় সময়ও তাদের নেই। এবং প্রয়ােজনীয় যােগ্যতাও নেই। আল্লাহর কিছু বান্দাহ দ্বীনের জ্ঞানার্জন ৷ সে সম্পর্কে বিস্তারিত এবং ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য নিজেদের পুরাে জীবনটাই ওয়াকফ করে দিয়েছেন ৷

তাঁরা কুরআনের প্রতি গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে ৷ রাসূল (সা)-এর হাদীসসমূহ এবং সমসাময়িক পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর ব্যাপক পর্যালােচনা করে ৷ সাহাবায়ে কেরামের (রা) যুগের কর্মকৌশল সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হয়ে ৷ তাবেয়ীনদের দেয়া ফতােয়াসমূহ সংগ্রহ করে ৷ শরীয়াতের যাবতীয় বিধি-নিষেধ, সমস্যা ও তার সমাধান নির্দেশ একত্রিত করে ৷ তা সাধারণের জন্য উপস্থাপন করেছেন।

এভাবে তারা এক মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে গেছেন। তাঁদের এই অক্লান্ত পরিশ্রম অগণিত মানুষের জন্য জীবন-সমস্যার সমাধান সহজতর করে দিয়েছে।

অথচ আজকের দিনে। কিছু কিছু লােক এই মহান ব্যক্তিদের মহান দায়িত্বের প্রতিফল (?) হিসেবে তাঁদের কাজের ব্যাপারে অশােভন ও বাজে মন্তব্য ও মতভেদ প্রকাশ করে।

এখানে একথা পরিষ্কার যে, যারা নিজেরা এ সম্পর্কে অজ্ঞ এবং কুরআন ও হাদীস থেকে সরাসরি সমস্যার সমাধান বের করতে অক্ষম, শেষ পর্যন্ত তাদেরকে কারাে না কারাে উপর নির্ভর করতেই হবে।

অতএব, এসব ব্যক্তির দায়িত্ব হচ্ছে, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানীজনদের নিকট থেকে জেনে নেয়া। স্বয়ং কুরআন মজিদ নির্দেশ দিচ্ছে। “যদি তােমরা না জান, তাহলে জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট জিজ্ঞেস কর।” (সূরা নাহলঃ ৪৩৪৪)

এটা কোন দ্বিধা-সংকোচের ব্যাপার নয় এবং এতে কোন গুনাহও নেই।

আরও পড়ুনঃ দোয়ায় কুনুত

যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে শরীয়াতের বিধান বের করার যােগ্যতা থাকে ৷ এবং তিনি যদি কুরআন-হাদীসের উপর গভীর দৃষ্টি দিতে সক্ষম হন ৷ সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি তাঁর জানা থাকে ৷ তার জন্য সাধারণ মানুষের মতাে কারাে অন্ধ অনুকরণ করা জায়েজ নয়।

কোন বিশেষ ফেকাহর কোন বিশেষ মাসআলা অনুসরণ করার পূর্বে তার কর্তব্য হচ্ছে, এ ব্যাপারে উল্লেখিত ফেকাহর দলীল-পত্র কতটুকু নির্ভরযােগ্য ৷ এবং কুরআন হাদীস অনুযায়ী এর গুরুত্বই বা কতটুকু সে ব্যাপারে নিশ্চিত প্রশান্তচিত্ত হওয়া ৷

যদি দলীল-পত্রের মাধ্যমে তিনি এটা অনুভব করেন যে, অমুক মাসআলার ব্যাপারে অমুক ফেকাহর দলীল দুর্বল এবং এরপরও জেনেশুনে একই ফেকাহর অনুসরণ করেন তবে অন্যায় কাজ করবেন।

মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

আপনারা দেখবেন, যেসব আলেম আজকের দিনে অন্ধ অনুকরণকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখেন ৷ তারা এক একটি মাসআলার ব্যাপারে নিজেদের অন্ধ অনুকরণের পক্ষে দলীল উপস্থাপন করেন ৷ এবং এও বলেন যে, এই ফেকাহর এই মাসআলা এই দিক থেকে সঠিক। এভাবে কথা বলার পরও তাঁরা নিজেদেরকে অন্ধ অনুকরণকারী মনে না করে শুধুমাত্র অনুসারী মনে করেন।

এরপর কোন ব্যক্তি ইমাম আবু হানীফা (র)-এর অন্ধ অনুকরণ করুক ৷ বা মাওলানা ছানাউল্লাহ (র)-এর অন্ধ অনুকরণ করুক ৷ বা ইমাম বুখারী (র) বা ইবনে তাইমিয়া (র) বা মাওলানা ইবরাহীম শিয়ালকোটি (র)-এর অন্ধ অনুকরণ করুক ৷ এতে কি পার্থক্য থাকতে পারে ?

সুতরাং যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে অজ্ঞ, অন্ধ অনুকরণ ছাড়া তার আর কোন গতি নেই। অতএব, সে কোন আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তির কথা শুনবে এবং তার উপর আমল করবে।

একটি উদাহরণ দিই

 

এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-اقيموا الصلاة তথা সালাত কায়েম কর। নামাজ প্রতিষ্ঠা করো ৷ আরেক আয়াতে বলেছেন-

إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ

তথা নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা এবং ফেরেস্তারা নবীজীর উপর সালাত পড়ে। এই আয়াতের শেষাংশে এসেছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

তথা হে মুমিনরা তোমরাও তাঁর উপর সালাত পড় এবং তাঁকে সালাম জানাও। {সূরা আহযাব-৫৬}

এই সকল স্থানে লক্ষ্য করুন-“সালাত” শব্দটির দিকে। তিনটি স্থানে সালাত এসেছে। এই তিন স্থানের সালাত শব্দের ৪টি অর্থ। প্রথম অংশে সালাত দ্বারা উদ্দেশ্য হল “নামায” অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দিলেন যে, তোমরা নামায কায়েম কর। {সূরা বাকারা-৪৩}

মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

 

আর দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ও তার ফেরেস্তারা নবীজী সাঃ এর উপর সালাত পড়েন মানে হল-আল্লাহ তায়ালা নবীজী সাঃ এর উপর রহমত পাঠান, আর ফেরেস্তারা নবীজী সাঃ এর জন্য মাগফিরাতের দুআ করেন।

আর তৃতীয় আয়াতাংশে “সালাত” দ্বারা উদ্দেশ্য হল উম্মতরা যেন নবীজী সাঃ এর উপর দরূদ পাঠ করেন।

كتاب الكليات ـ لأبى البقاء الكفومى

একজন সাধারণ পাঠক বা সাধারণ আলেম এই পার্থক্যের কথা কিভাবে জানবে? সেতো নামাযের স্থানে বলবে রহমাতের কথা ৷ রহমতের স্থানে বলবে দরূদের কথা ৷ দরূদের স্থানে বলবে নামাযের কথা। এরকম করলে দ্বীন আর দ্বীন থাকবে না, হবে জগাখিচুরী।

এরকম অসখ্যা স্থান আছে, যার অর্থ উদ্ধার করা কঠিন। তাই একজন বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ব্যক্তির শরাপন্ন হয়ে তার গবেষণা অনুযায়ী উক্ত বিষয়ের সমাধান নেয়াটাই হল যৌক্তিক। এই নির্দেশনাই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দিয়েছেন-

فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} النحل:43

তথা তোমরা না জানলে বিজ্ঞদের কাছে জিজ্ঞেস করে নাও। {সূরা নাহল-৪৩}

বিজ্ঞ ফুক্বাহায়ে কিরাম কুরআন সুন্নাহ, ইজমায়ে উম্মাত, এবং যুক্তির নিরিখে সকল সমস্যার সমাধান বের করেছেন। সেই সকল বিজ্ঞদের অনুসরণ করার নামই হল মাযহাব অনুসরণ। যেই অনুসরণের নির্দেশ সরাসরি আল্লাহ তায়ালা দিলেন পবিত্র কুরআনে।

মাযহাব কি রাসূল সাঃ, সাহাবী এবং তাবেঈরা মেনেছেন? 

 

 

মাযহাব কি এটা নিশ্চয় আগের বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে। সেই হিসেবে রাসূল সাঃ এর দুনিয়াতে কারো মাযহাব অনুসরণের দরকার নাই। কারণ তিনি নিজেইতো শরীয়ত প্রণেতাদের একজন। তিনি কার ব্যাখ্যা গ্রহণ করে অনুসরণ করবেন? তিনি কেবল আল্লাহ তায়ালার থেকেই সমাধান জেনে আমল করেছেন, এবং আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবার আসুন সাহাবীদের মাযহাব খুঁজি ৷

সাহাবীদের মাযহাব কি?

 

সাহাবায়ে কিরাম যারা সরাসরি রাসূল সাঃ এর কাছে ছিলেন ৷ তাদের জন্য রাসূল সাঃ এর ব্যাখ্যা অনুসরণ করা ছিল আবশ্যক। এছাড়া কারো ব্যাখ্যা নয়। কিন্তু যেই সকল সাহাবারা ছিলেন নবীজী সাঃ থেকে দূরে তারা সেই স্থানের বিজ্ঞ সাহাবীর মাযহাব তথা মত অনুসরণ করতেন।

 ইয়ামেনে হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর মত তথা মাযহাবের অনুসরণ হত। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের মাযহাব অনুসরণ করতেন ইরাকের মানুষ।

রাসূল সাঃ যখন মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ কে ইয়ামানে পাঠাতে মনস্থ করলেন ৷ তখন মুয়াজ রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন-“যখন তোমার কাছে বিচারের ভার ন্যস্ত হবে তখন তুমি কিভাবে ফায়সাল করবে?” তখন তিনি বললেন-“আমি ফায়সালা করব কিতাবুল্লাহ দ্বারা”

রাসূল সাঃ বললেন-“যদি কিতাবুল্লাহ এ না পাও?” তিনি বললেন-“তাহলে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাত দ্বারা ফায়সালা করব”। রাসূল সাঃ বললেন-“যদি রাসূলুল্লাহ এর সুন্নাতে না পাও?” তখন তিনি বললেন-“তাহলে আমি ইজতিহাদ তথা উদ্ভাবন করার চেষ্টা করব”।

তখন রাসূল সাঃ তাঁর বুকে চাপড় মেরে বললেন-“যাবতীয় প্রশংসা ঐ আল্লাহর যিনি তাঁর রাসূলের প্রতিনিধিকে সেই তৌফিক দিয়েছেন যে ব্যাপারে তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট”। {সূনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৯৪, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-১৩২৭, সুনানে দারেমী, হাদিস নং-১৬৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২০৬১}

এই হাদীসে লক্ষ্য করুন-রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় হযরত মুয়াজ রাঃ বলছেন যে, আমি কুরআন সুন্নাহ এ না পেলে নিজ থেকে ইজতিহাদ করব, আল্লাহর নবী বললেন-“আল হামদুলিল্লাহ”। আর ইয়ামেনের লোকদের উপর হযরত মুয়াজের মত তথা মাযহাব অনুসরণ যে আবশ্যক এটাও কিন্তু হাদীস দ্বারা স্পষ্ট।

মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

এছাড়া সাহাবাদের যুগে যে সকল সাহাবাদের মাযহাব তথা মত অনুসরণীয় ছিল। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হল-

হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ, হযরত আলী বিন আবু তালিব রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ, হযরত আয়েশা রাঃ, হযরত জায়েদ বিন সাবেত রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ প্রমূখ সাহাবাগণ।

তাবেয়ীদের মাযহাব

 

 

তাবেয়ীরা যেই সকল এলাকায় থাকতেন, সেই সকল এলাকার বিজ্ঞ সাহাবীদের বা বিজ্ঞ মুজতাহিদের মত তথা মাযহাবের অনুসরণ করতেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য ছিলেন-

হযরত সাঈদ বিন মুসায়্যিব রহঃ ৷ হযরত আবু সালমা বিন আব্দির রহমান রহঃ ৷ হযরত ওরওয়া বিন জুবাইর রহঃ ৷ হযরত কাসেম বিন মুহাম্মদ রহঃ ৷ হযরত সুলাইমান বিন ইয়াসার রহঃ ৷ হযরত খারেজা বিন জায়েদ রহঃ প্রমূখবৃন্দ।

তারপর মদীনায় যাদের মত তথা মাযহাবের অনুসরণ করা হত তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হল-হযরত ইমাম জুহরী রহঃ ৷ হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ রহঃ ৷হযরত রাবিয়া বিন আব্দির রহমান রহঃ।

আর মক্কা মুকার্রমায় ছিলেন আতা বিন আবি রাবাহ রহঃ ৷ আলী বিন আবি তালহা রহঃ ৷ আব্দুল মালিক বিন জুরাইজ রহঃ প্রমূখ।

আর কুফায় ছিলেন হযরত ইবরাহীম নাখয়ী ৷ আমের বিন শুরাহবীল ৷ শা’বী, আলকামা, আল আসওয়াদ রহঃ।

মাজহাব মানা কি জরুরি | মাযহাব মানা কি ফরজ

 

আর বসরায় ছিলেন-হাসান বসরী রহঃ। ইয়ামানে হযরত তাওস বিন কায়সান রহঃ। শামে হযরত মাকহুল রহঃ প্রমূখ।

যাদের ফাতওয়া বিধৃত হয়েছে-মুয়াত্তাগুলোতে ৷ মুসনাদগুলোতে, আর সুনানগুলোতে, যেমন মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৷ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, কিতাবুল আসার, শরহু মায়ানিল আসার ইত্যাদী গ্রন্থে ৷

মুহাদ্দিসগণ কি মাযহাব মেনেছেন?

 

 

এই কথাটি বুঝার আগে একটি কথা আগে বুঝে নিন। সেটা হল-রাসূল সাঃ এর যুগ থেকেই দু’টি দল চলে আসছে ৷ একটি দল হল যারা ইজতিহাদ তথা উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী। তারা ইজতিহাদ করতেন তথা মত দিতেন বিভিন্ন বিষয়ে। আর একদল ছিলেন যাদের এই ক্ষমতা ছিলনা, তারা সেই মুজতাহিদদের মতের তথা মাযহাবের অনুসরণ করতেন।

ঠিক একই অবস্থা ছিল সাহাবাদের যুগে। একদল ছিল মুজতাহিদ, যাদের একটি তালিকা ইতোপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। আর বিশাল এক জামাত ছিল যারা ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখতেন না। তারা সেই সকল মুজতাহিদদের মাযহাব তথা মতের অনুসরণ করতেন। তেমনি তাবেয়ীদের একই অবস্থা ছিল, একদল মুজতাহিদ, আরেকদল মুকাল্লিদ তথা অনুসারী।

এমনি মুহাদ্দিসীনদের মাঝেও দুই দল ছিল, একদল ছিল যারা ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখতেন, আরেকদল ছিল যারা ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখতেন না। তাই তাদের মাঝে কারো কারো মাযহাব রয়েছে কারো কারো নেই। কেউ কেউ নিজেই মাসআলা বের করেছেন, কেউ কেউ অন্য কোন ইমামের অনুসরণ করেছেন।

যেমন ইমাম বুখারী মুজতাহিদ ছিলেন, তাই তার কারো অনুসরণের দরকার নাই। তবে কেউ কেই তাকে শাফেয়ী মাযহাবী বলে মত ব্যক্ত করেছেন। {আল ইনসাফ=৬৭, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ-২/২, আবজাদুল উলুম—৮১০}

এমনিভাবে ইমাম মুসলিম রহঃ ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। {আল হিত্তাহ-১৮৬}

নাসায়ী শরীফের সংকলক ইমাম নাসায়ী রহঃ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ এর মাযাহাবের অনুসারী ছিলেন।, ইমাম আবু দাউদ রহঃ, ও ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী। {ফয়জুল বারী-১/৫৮, আবজাদুল উলুম-৮১০, ইলাউল মুয়াক্কিয়ীন-১/২৩৬}

✿১। ইমাম বুখারী রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ নবাব ছিদ্দিক হাসান খান লিখিত আবজাদুল উলুম পৃষ্ঠা নং ৮১০, আলহিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৮৩।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ পৃষ্ঠা নং ৬৭।
আল্লামা তাজ উদ্দীন সুবকী রহঃ লিখিত ত্ববকাতুশ শাফেয়ী পৃষ্ঠা নং ২/২।
✿২। ইমাম মুসলিম রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ ছিদ্দিক হাঃ খান লিখিত আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।
✿৩। ইমাম তিরমিজী নিজে মুজ্তাহিদ ছিলেন। তবে হানাফী ও হাম্বলী মাজহাবের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।
সুত্রঃ শা ওয়ালিউল্লাহ রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ পৃষ্ঠা নং ৭৯।
✿৪। ইমাম নাসাঈ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।
সুত্রঃ নঃ ছিঃ হাঃ লিখিত আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৯৩।
✿৫। ইমাম আবুদাউদ রহঃ শাফেয়ী।
সুত্রঃ আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।
আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহঃ ইবনে তাইমিয়ার উদ্দৃতি দিয়ে ফয়জুল বারী ১/৫৮ তে ইমাম আবুদাউদ রহঃকে হাম্বলী বলে উল্যেখ করেছেন।
✿৬। ইমাম ইবনে মাজাহ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ ফয়জুলবারী ১/৫৮।

এ গেল ছিহাহ ছিত্তার ইমামগণের মাজহাব।

ইমাম তাহাবী রহঃ ছিলেন হানাফী রহঃ এর অনুসারী। যা তার সংকলিত তাহাবী শরীফ পড়লেই যে কেউ বুঝতে পারবে। এছাড়াও বাকি সকল মুহাদ্দিস হয়ত মুজতাহিদ ছিলেন, নতুবা ছিলেন মুকাল্লিদ কোননা কোন ইমামের।

লেখকঃ

হাফেজ মাওলানা দীদার মাহদী

- Advertisement -