রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত মাওলানা দীদার মাহদী

678

রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত 

রামাদান ৷ ঈমান জাগানিয়া এক মাস ৷ চারদিকে পবিত্রতার এক পশলা ঝুমঝুম বৃষ্টি ঝড়ার মাস ৷

পবিত্র রমাজন মাস ৷ তাকওয়ার মাস ৷ গুনাহ মাফের শ্রেষ্ঠ মাস ৷ শয়তান শৃংখলিত হয় যে মাসে ৷

অন্যান্য মাসের ইবাদতের সওয়াব গাণিতিক হারে বেড়ে যায় এ মাসে ৷ সত্তুর থেকে সাতশ গুণ ৷

অফুরন্ত নেয়ামতের মাস রামাদান ৷ আরবি মাসসমূহের নবম মাস হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস।  এ মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যধিক ৷

- Advertisement -

মূলত কুরআন নাম মহা নেয়ামতের সম্মানেই এ মাসের এত কদর ৷ কুরআনুল কারিমের ছোঁয়া যে জায়গাতেই লেগেছে, সেটাই সম্মানিত হয়েছে ৷ হেরাগুহা এ কারণেই মর্যাদাপূর্ণ জায়গা ৷

মক্কা-মদীনাও তাই ৷ কুরআন যে রেহালে রেখে পড়া হয় তাও সম্মানিত ৷ যুগদান, ব্যাঞ্চ সবই ৷ কুরআন যারা বুকে ধারণ করেন সেসব হাফেজগণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ ৷

হাদীসে এসেছে, কুরআন শিক্ষা গ্রহণকারী ও কুরআনুল কারিমের শিক্ষার্থী সবার থেকে সেরা মানুষ ৷ এসবই হয়েছে কুরআনের মর্যাদার কারণে ৷ রোজা হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ।

রোজা শব্দটি ফারসি। এর আরবি পরিভাষা হচ্ছে সওম, বহুবচনে বলা হয় সিয়াম। সওম অর্থ বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা।

জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করা ৷ পরিভাষায় সওম হলো আল্লাহর সন্তুটি কামনায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকা।

 

রোজা ফরজ হয় কখন?

 

পবিত্র কুরআন বলছে,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ﴿۱۸۳﴾ۙ
হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।
[সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩]

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পর শরীয়তের বিধি-বিধান পালনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে তখন শরীয়তের বিধি-বিধান

ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হতে লাগল।

পূর্বের আয়াতগুলোতে কিসাস, অসিয়ত ইত্যাদি বিধি-বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আপনারা পড়ছেন – রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত 

অত্র আয়াতে মু’মিনদের তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

হিজরী দ্বিতীয় সনে সিয়াম (রোযা) ফরয হয়। এ সিয়াম পূর্ববর্তীদের ওপরও ফরয ছিল কিন্তু তা ছিল ভিন্নভাবে।

রোজা ফরজ হয় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো, পরহেজগার হতে পারো।

এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য, গুনাহ বর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাতের উপযোগী হওয়া, নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য।

রমজানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ্ তাআলা এ মাসটিকে স্বীয় ওহি সহিফা ও আসমানি কিতাব নাজিল করার জন্য মনোনীত করেছেন। অধিকাংশ কিতাব এ মাসেই নাজিল হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত, হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর সহিফা রমজানের ১ তারিখে, তাওরাত রমজানের ৬ তারিখে, জাবুর রমজানের ১২ তারিখে, ইঞ্জিল রমজানের ১৮ তারিখে এবং পবিত্র কোরআন কদরের রাত্রিতে নাজিল হয়েছে।

নিশ্চয়ই আমি এই কোরআনকে কদরের রাত্রিতে নাজিল করেছি। রমজান মাসের রোজা পালনকে ফরজ আখ্যায়িত করে আল্লাহ্ তাআলা সুরা বাকারা ১৮৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন, রমজান মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে আর এ কোরআন মানবজাতির জন্য পথের দিশা, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন, হক বাতিলের পার্থক্যকারী।

অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে সে এতে রোজা রাখবে, যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, সে পরবর্তী সময়ে গু​নে গুনে সেই পরিমাণ দিন পূরণ করে দেবে।

আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুন আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনার পর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।

ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সময়।

রোজার প্রতিদান

 

বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (স.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

রোজার পুরুষ্কার

হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, সিয়াম এবং কোরআন হাশরের ময়দানে বান্দা–বান্দীর জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ্ তাআলা তঁাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) আরও বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) বর্ণনা করেন, প্রত্যেক বস্তুর জাকাত রয়েছে, তেমনি শরীরেরও জাকাত আছে, আর শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা পালন করা।

অর্থাৎ জাকাতদানে যেভাবে মালের পবিত্রতা অর্জন হয়, তেমনি রোজা পালনের মাধ্যমে শরীর পবিত্র হয়, গুনাহ মুক্ত হয়।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলে পাক (স.) ইরশাদ করেন, মানুষের প্রত্যেক আমলের সওয়াব দশ গুণ হতে সাত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ‘রোজা এ নিয়মের ব্যতিক্রম, কেননা তা বিশেষভাবে আমার জন্য আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দেব, বান্দা তার পানাহার ও কামনা–বাসনাকে আমার সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করেছে।’

রোজা রেখে সর্ব প্রকার গুনাহ বর্জনের অঙ্গীকার করতে হবে

রোজার মাসে শুরুতে আল্লাহ্ তাআলা জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন, জান্নাতের দরজা খুলে দেন এবং শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখেন। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়। নেক কাজে অগ্রগামী হতে পারে। আল্লাহ্ তাআলা পবিত্র কালামের অনেক জায়গায় শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, শয়তান তোমাদের শত্রু, তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে চায় মানুষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করা, মদ–জুয়ায় নিমগ্ন করা, মিথ্যা বলায় উদ্বুদ্ধ করা, এককথায় খারাপ কাজে জড়িয়ে দেওয়া।

তাই হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও তৎসংক্রান্ত কাজ পরিত্যাগ করল না, তার রোজা রাখার আমার কোনো প্রয়োজন নেই।

তাই শয়তানি কার্যক্রম থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

রোজার নিয়তঃ ( rojar niyot )

 

অনেকেই আমাদের কাছে রোজা রাখার নিয়ত সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন  । আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা রোজার বাংলা এবং আরবি নিয়ত নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ ।

রোজার আরবি নিয়তঃ –

নাওয়াইতুয়ান আছুম্মা গাদাম মিন  শাহরি    রমাজানাল মুবারাকি ফারদল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম ।

রোজার বাংলা নিয়তঃ- 

 হে আল্লাহ!,

আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

 

রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজা

হজরত সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম ‘­রাইয়ান’।

এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্যরাও এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে।

কিন্তু রোজাদার ব্যতীত অন্য কাউকে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। (বুখারি ও মুসলিম)।

রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে, একটি তার ইফতারের সময়, অপরটি হলো আল্লাহ্ তাআলার দিদার বা সাক্ষাতের সময়।

হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সময়। আল্লাহ্ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। আর এই সময়ের দোয়া হচ্ছে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিয়াত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি জুনুবি।’

লাইলাতুল কদর ( শবে কদর) 

লাইলাতুল কদর হচ্ছে একমনে একটি রাত যে রাতে জেগে ইবাদত–বন্দেগি করলে এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।

এক হাজার মাসের হিসাব করলে কদরের এক রাতের ইবাদত ৮৬ বছর ৪ মাসের সমান। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তার চেয়েও বেশি বা উত্তম বলেছেন।

যে ব্যক্তি কদরের রাতে সওয়ারের আশায় ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

উম্মুল মুমিনিন হজরত আ​য়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমি যদি কদরের রাত্রি পাই, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব? ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’ এই দোয়া পড়বে।

হাদিসে আছে, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ) শবে কদর তালাশ করবে।

তারাবি নামাজ

এশার সালাতের (ফরজ ও সুন্নতের) পর বিতরের আগে দুই রাকাত করে মোট ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। সম্ভব হলে খতম তারাবি আদায় করবে।

ইতিকাফ

আল্লাহ্ তাঅালা ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আনতুম আকিফুনা ফিল মাসজিদ’ তোমরা মসজিদে ইতিকাফ করো।

ইতিকাফ শব্দের অর্থ নিজেকে আবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হলো, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় শর্ত সাপেক্ষে নিয়তসহকারে পুরুষেরা মসজিদে ও নারীরা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা। রমজানের শেষ দশক (২০ রমজান থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে শাওয়াল মাসের চঁাদ দেখা পর্যন্ত) ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া।

বিনা প্রয়োজনে অর্থাৎ গোসল, খাবার, প্রস্রাব–পায়খানা ব্যতীত অন্য কোনো অজুহাতে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করতে পারবে না।

ইতিকাফ অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, নফল নামাজ ইত্যাদিতে মশগুল থাকবে।

রোজা ভঙ্গের কারণ কী? রোজা ভঙ্গের কারন কয়টি ও কি কি?

রোজা ভঙ্গের কারন কি কি

“যেসব কারনে রোজা ভঙ্গ হয় সেগুলো হলো –

১। সহবাস

২। হস্তমৈথুন

৩। পানাহার

৪। যা কিছু পানাহারের স্থলাভিষিক্ত

৫। শিঙ্গা লাগানো কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কারণে রক্ত বের করা

৬। ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা

৭। মহিলাদের হায়েয ও নিফাসের রক্ত বের হওয়া

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য   রোজার বিধানঃ

রমজান মাসে সক্ষম মুমিন নারী-পুরুষের রোজা পালন করা ফরজ ইবাদত।

কিন্তু যারা রোজা পালনে সক্ষম নয়, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য রমজানে রয়েছে বিশেষ ছাড়।

করুণাময় আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘সিয়াম বা রোজা নির্দিষ্ট কয়েক দিন (এক মাস মাত্র)। তবে তোমাদের মধ্যে যারা পীড়িত থাকবে বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে তা এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আর যাদের রোজা পালনের সামর্থ্য নেই, তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া দেবে একজন মিসকিনের খাবার।

অনন্তর যে ব্যক্তি অধিক দান করবে, তবে তা তার জন্য অতি উত্তম। আর যদি তোমরা পুনরায় রোজা পালন করো তবে তা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম।’ (আল কোরআন, সুরা-২ [৮৭] আল বাকারা (মাদানি), রুকু: ২৩/৭, আয়াত: ১৮৪, পারা: সাইয়াকুল-২, পৃষ্ঠা: ২৮/৬)।

 

রমজানে রোজা ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো: 

(১) স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া,

(২) সাবালক হওয়া,

(৩) সুস্থ ও সক্ষম হওয়া,

(৪) নারীদের পবিত্র অবস্থায় থাকা,

(৫) সফর বা ভ্রমণে না থাকা।

দয়াময় আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘রমজান মাস! যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানবের দিশারিরূপে ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে। সুতরাং তোমাদের যারা এ মাস পাবে, তারা যেন তাতে রোজা পালন করে।

আর তোমাদের যারা পীড়িত থাকবে বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে তা এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তিনি তোমাদের প্রতি কঠিন করতে চান না; যাতে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা করো

যে তিনি তোমাদের হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।’ (আল কোরআন, সুরা-২ [৮৭] আল বাকারা (মাদানি), রুকু: ২৩/৭, আয়াত: ১৮৪, পারা: সাইয়াকুল-২, পৃষ্ঠা: ২৯/৭)।

ইসলামের বিধান পালন করা হয় মানুষের নিজেদের স্বার্থে বা নিজেদের উপকারার্থে; এতে আল্লাহ তাআলার লাভ, স্বার্থ বা উপকার নেই।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণের জন্য বিধান দিয়েছেন মানুষেরই সামর্থ্য অনুযায়ী।

মহান প্রভু বলেন: ‘আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব চাপান না।’ (আল কোরআন, সুরা-২ [৮৭] আল বাকারা (মাদানি), রুকু: ৪০/৮, আয়াত: ২৮৬, পারা: তিলকার রাসুল-৩, পৃষ্ঠা: ৫০/৮)।

হাদিস শরিফে আছে, যখন কোরআন করিমের আয়াত নাজিল হলো: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথরূপে ভয় করো।’ (সূরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ১০২)। (আল কোরআন, সুরা-৩ [৮৯] আলে ইমরান (মাদানি), রুকু: ১১/২, আয়াত: ১০২, পারা: লান তানালু-৪, পৃষ্ঠা: ৬৪/২)। তখন সাহাবায়ে কিরাম অসহায়ত্ব ও অপারগতা প্রকাশ করে নবীজি (সা.)-এর দরবারে আবেদন করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (সা.) মহান আল্লাহ তাআলার শান মতো তাঁকে যথার্থরূপে ভয় করা আমাদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব!

আপনি আমাদের তরফ থেকে আল্লাহ তাআলার দরবারে এই বিষয়টি সহজ করার আবেদন করুন। তখন আল্লাহ তাআলা মেহেরবানি করে নাজিল করলেন: ‘তবে তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় করো; আর তোমরা শোনো ও আনুগত্য করো।’ (আল কোরআন, সুরা-৬৪ [১০৮] আত তাগাবুন (মাদানি), রুকু: ২/১৬, আয়াত: ১৬, পারা: কাদ সামিআল্লাহ-২৮, পৃষ্ঠা: ৫৫৮/১৬)।

কেউ যদি সফরে বা ভ্রমণে থাকেন,তিনি সম্ভব হলে রোজা পালন করবেন; এটাই উত্তম। আর কষ্ট হলে রোজা ছাড়তে পারবেন; তবে এই রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো এক রমজানে রোজা অবস্থায় মক্কার পথে যাত্রা করলেন। কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছার পর তিনি রোজা ছেড়ে দিলে সবাই রোজা ছেড়ে দিলেন। (বুখারি শরিফ, সওম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ১,২১৭, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৬১-২৬২, হাদিস: ১,৮২০)।

অনুরূপ মুসাফির বা ভ্রমণকারীর জন্য নামাজেও ছাড় রয়েছে। চার রাকাত ফরজ নামাজগুলো কসর (সংক্ষিপ্ত) অর্থাৎ দুই রাকাত আদায় করবে।

 

পড়ুন – শবে মেরাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

সুন্নতে মুআক্কাদাগুলো নফলের পর্যায়ে চলে যাবে। আদায় করলে সুন্নতের সওয়াব পাবে; তরক করলে নফল নফল তরকের মতো হবে।

ফিদ্ইয়া আরবি শব্দ। অর্থ হলো বিনিময়, মূল্য, পণ বা মুক্তিপণ; বিকল্প বা স্থলাভিষিক্ত; সম্মানজনক প্রতিদান। (লিসানুল আরব)। যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমান বার্ধক্য, অসুস্থতা বা যেকোনো কারণে রোজা পালনে অক্ষম বা অপারগ হন এবং পুনরায় সুস্থ হয়ে বা সক্ষমতা ফিরে পেয়ে রোজার কাজা আদায় করার মতো সম্ভাবনাও না থাকে।

এমতাবস্থায় এই ব্যক্তির প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ সদকা আদায় করতে হবে।

ফিদ্ইয়া জাকাত ও সদকার হকদারদের বা জাকাত প্রদানের খাতসমূহে প্রদান করা যাবে।

এক দিনের ফিদ্ইয়া একাধিক ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দেওয়া যাবে আবার একাধিক দিনের ফিদ্ইয়া এক ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে।

কয়েক দিনের রোজার ফিদ্ইয়া একত্রেও আদায় করা যায় এবং অগ্রিমও প্রদান করা যায়।

যাকে ফিদ্ইয়া দেওয়া হবে তার রোজাদার হওয়া জরুরি নয়, যেমন: নাবালেগ মিসকিন শিশু বা অতিবৃদ্ধ দুর্বল অক্ষম অসুস্থ অসহায় গরিব ব্যক্তি, যিনি নিজেও রোজা পালন করতে পারছেন না।

একজনের রোজা আরেকজন রাখতে পারে না, তাই ফিদ্ইয়া রোজার পরিবর্তে রোজা নয়; ফিদ্ইয়া হলো রোজার পরিবর্তে খাদ্য বা উহার মূল্য প্রদান করা। (ফাতাওয়া আজিজি)।

অন্তঃসত্ত্বা নারীরা রোজা রাখলে যদি তাঁর নিজের বা গর্ভস্থ সন্তানের সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা থাকে; তবে পরে কাজা আদায় করতে পারবেন।

এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ধর্মীয় বিধানের গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। বিনা কারণে বা সামান্য অজুহাতে ফরজ রোজা ছাড়া যাবে না। (ফাতাওয়া আজিজি)।

ছোটদের রোজা রাখা উচিত কী?

ছোটদের উপর রোজা রাখা ফরজ নয়।কিন্তু রমজান আসলে শিশু-কিশোরদের মাঝে দেখা যায় অন্যরকম এক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ছোট ছোট শিশুরা আনন্দ-উৎসাহের মাধ্যমে ভোর রাতে সাহরি খায়। সারাদিন উপোস থেকে রোজা রাখে, যাতে রয়েছে উপকারিতা ও সাওয়াব।

ছোটদের রোজা

ইফতারের সময় শিশুদের কলরব কার না ভালো লাগে। শিশুরাও ইফতার সাজানো এবং ইফতারের সময় মজা করে ইফতার খেতে পছন্দ সকরে।

রোজা না রাখলেও তারা ইফতারের সময় রোজাদারদের মতো ইফতারের আনন্দ উপভোগ করে। চমৎকার একটি পরিবেশ বিরাজ করে প্রতিটি মুসলিম ঘরে।

অল্প বয়স থেকে রোজা রাখার চেষ্টা করার মাধ্যমে অভ্যাস গঠন করা অনেক বড় উপকার। আর যে কোনো ভালো কাজর চেষ্টায় রয়েছে জন্য উপকারিতা।

এতে অভ্যাস গঠন হয়। বড় হলে রোজা পালনে তাদেরকে কোনো প্রতিবন্ধতার মুখোমুখি হতে হয় না। যাদের রোজা রাখা ফরজ নয়, তারা যদি রোজা রাখে তবে তাদের রোজা শুদ্ধ হবে এবং তারা রোজার ঘোষিত সব ফজিলত ও সাওয়াব পাবে।

রোজা রাখা নাবালক শিশুরাই সাওয়াব পাবে না বরং ভালো কাজের অভ্যাস গঠনে নির্দেশ ও সহযোগিতা করার কারণে শিশুদের বাবা-মাদের জন্যও রয়েছে সাওয়াব।

সুতরাং প্রত্যেক শিশুর অভিভাবকদের উচিত, ছোট ছোট শিশুদের মধ্যে যারা রোজা রাখতে সক্ষম কিন্তু ফরজ হয়নি তাদের রোজা রাখার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে উৎসাহ দেয় এবং রোজার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবাগণ নিজেদের নাবালক ছোট বাচ্চাদের রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করতেন।

হাদিসে এসেছে- হজরত রুবাইয়ি বিনতে মুআওবিয রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিন সকালে মদিনার উপকন্ঠে বসবাসরত আনসারদের কাছে এ খবর পাঠালেন, যারা ফজরের আগে থেকে রোজা রেখেছে, তারা যেন তাদের রোজা পূর্ণ করে।

আর যারা রোজা না রাখা সত্বেও ফজর অতিক্রম করেছে, তারাও যেন বাকি দিন রোজা পালন করে।
সুতরাং আমরা তার পর থেকে রোজা রাখতাম এবং আমাদের ছোট ছোট শিশুদের রোজা রাখাতাম এবং তাদেরকে নিয়ে মসজিদে যেতাম।

তাদের জন্য তুলা দ্বারা পুতুল বানাতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে সেই পুতুল দিতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।

শিশুদের ক্ষুধার কষ্ট দূর করা সম্পর্কে অন্য বর্ণনায় এসেছে- আমরা তাদেরকে সে খেলনা দিতাম, যাতে তারা (খাবারের কথা) ভুলে থাকে এবং খেলার মাঝে তাদের রোজা পূর্ণ করতে পারে।’ (মুসলিম)।

সুতরাং ছোট বয়স থেকে রোজায় বাচ্ছাদের উদ্বুদ্ধ করা ইসলামে নীতি। আর তাতে যেমন রয়েছে শিশুদের উপকারিতা ও সাওয়াব।

তেমনি যারা তাদের রোজার প্রতি উৎসাহ যোগায় তাদের জন্যও রয়েছে সাওয়াব।

মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিকে তাদের ছোট ছোট নাবালক কিংবা জ্ঞানবান শিশুদের রোজার প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন।

রোজা না রাখার শাস্তি কী?

রোজা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ করা হয়েছে। এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তার নিজ হাতেই প্রদান করবেন।

তবে রমজান মাসে যারা এই ফরজ এবাদাত থেকে দূরে থাকবেন তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।

এই মাস মূলত পাপাচার থেকে মুসলমানদের দূরে রাখার মাস। এ মাস জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার অর্জনের মাস।

মাহে রমজানে নেক আমলের ফজিলত যেমন বেশি, তেমনি এ মাসে গুনাহ করলে এর শাস্তি বেশি। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে যে কঠিন শাস্তির হুকুম এসেছে, সেই ব্যক্তি ইহকালে তা না পেলেও পরকালে তার শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘একদিন আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে।

তাদের গলাটি ফাড়া এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? বলা হল, এরা ঐসব ব্যক্তি যারা বিনা উযরে রমজান মাসের সিয়াম ভঙ্গ করেছিল।’ (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ)

অতএব যারা রমযান পেলো কিন্তু তারপরও গ্রহণ করতে পারল না তার চেয়ে আর হতভাগা কেউ নেই। হযরত আবু উমামা রা. বলেন, আমি  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, অমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম আমার নিকট দুই ব্যক্তি আগমন করল।

তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে এল। তারপর আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ের উপর উঠুন। আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না

তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দিব। আমি উপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌছালাম, হঠাৎ ভয়ঙ্কর আওযাজ শুনতে পেলাম।

অমি বললাম, এ সব কিসের আওয়াজ? তারা বলল, এটা জাহান্নামীদের আর্তনাদ।

তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশী দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোযা ভেঙ্গে ফেলে। (-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ১৯৮৬; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭৪৪৮)

বিনা কারণে যে ব্যক্তি মাহে রমজানের মাত্র একটি রোজা না রাখে এবং পরে যদি ওই রোজার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে, তবু সে ততটুকু সওয়াব পাবে না, যতটুকু মাহে রমজানে ওই একটি রোজার কারণে পেত।

এ সম্পর্কে ফিকাহবিদদের মতে, দুই মাস একাধারে রোজা রাখলে স্বেচ্ছায় ভাঙা একটি রোজার কাফফারা আদায় হয় আর এই কাফফারার বিনিময়ে একটি রোজার ফরজের দায়িত্বটা কেবল আদায় হয়।

আর যারা নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমজানে রোজা রাখে না, তাদের শাস্তি কত যে ভয়াবহ হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশী দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোযা ভেঙ্গে ফেলে

তবে রমজান মাসে যাঁরা পীড়িত, অতিবৃদ্ধ, যাদের দৈহিক দুর্বলতার কারণে সিয়াম পালন করা খুবই কষ্টদায়ক হয়ে যায়, যারা সফরে থাকার কারণে মাহে রমজানে সিয়াম পালন করতে পারেন না, তাদের জন্য রোজার কাজা, কাফফারা, ফিদইয়া ইত্যাদি বদলা ব্যবস্থা স্থির করে শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধি-ব্যবস্থা রয়েছে।

এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।

এ (সিয়াম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া-একজন মিসকিনকে অন্নদান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে সেটা তার পক্ষে অধিকতর কল্যাণকর।

তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। আর কেউ পীড়িত থাকলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে।

আল্লাহ তোমাদের জন্য যেটা সহজ সেটাই চান এবং যা তোমাদের জন্য ক্লেশকর, তা চান না এ জন্য যে তোমরা সংখ্যা পূরণ করবে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৪-১৮৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ ইখলাসের সাথে রমজান মাসের রোজা পালন করার তৌফিক দান করুক আমিন ।

 

লেখকঃ

মাওলানা দিদার মাহদী 

প্রিন্সিপাল , দারুল হুদা মডেল মাদ্রাসা। 

 

ট্যাগঃ রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব রোজার গুরুত্ব

- Advertisement -