শবে বরাত পালন করা কি জায়েজ ? মাওলানা শরিফ আহমাদ

1,136

- Advertisement -

শবে বরাত পালন করা কি জায়েজ ? শবে বরাত কি বিদআত ?

 

 

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ । ইদানীং শবে বারাতকে নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । অনলাইন- অফলাইনে বিভিন্ন তর্ক বিতর্ক হচ্ছে । কোথাও কোথাও ডিবেট পর্যন্ত হচ্ছে ।‌ তাই কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক সঠিক ম্যাসেজ মুসলিম উম্মাহকে পৌঁছানোর ইচ্ছায় ‌ব্যস্ততার ভেতরে দ্রুত লিখছি । পুরো লেখাটি পড়ুন । অল্প সময়ে প্রকৃত বিষয়টা জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ ।‌

 

শবে বরাত সম্পর্কে জানতে চাই 

 

শব একটি ফারসী শব্দ। শব্দটির অর্থ হলো রাত । বারাআত একটি আরবী শব্দ। শব্দটির অর্থ মুক্তি, নিষ্কৃতি ইত্যাদি । আরবী এবং ফার্সি মিলিয়ে হয়েছে শবে বারাআত । এখন এক কথায় অর্থ হবে জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত । শবে বারাআতকে হাদীসের ভাষায় লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বলা হয়েছে। (ليلة النصف من شعبان) অর্থাৎ সাবানের অর্ধ মাসের রাত ।

 

আপত্তির সহজ জবাব

 

সুপ্রিয় পাঠক ।‌ ‘শবে বারাত” এই শব্দে কোরআন ও হাদীসে লেখা না থাকায় অনেকে শবে বারাআত বলতে কিছু নেই ঘোষণা করেছেন । অনেকে অনেক খোঁড়া যুক্তি তুলে থাকেন । তাদের দাবি এবং যুক্তি সঠিক নয় । একটু বুঝিয়ে বলি আমরা সবাই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি কোরআন-হাদীসের নির্দেশের কারণে । কিন্তু কোরআন ও হাদীসের কোথাও কি নামাজ শব্দ আছে ? আমরা যাকে নামাজ বলি কোরআন ও হাদীসের উদ্বৃত শব্দ সালাতই তো‌ নামাজ ।‌

তদ্রুপভাবে আমরা যাকে শবে বারাআত বলি হাদীসে সেটাকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বলা হয়েছে ।

এভাবে আরো অনেক শব্দ আছে যেগুলো সরাসরি কুরআন ও হাদীসের মধ্যে উল্লেখ নেই । কিন্তু শব্দগুলোর মর্ম ও উদ্দেশ্য কোরআন-হাদীস সমর্থিত বা ইসলাম কেন্দ্রিক ।‌ যেমন ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল , সালাফী কনফারেন্স ইত্যাদি । এগুলো কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত শব্দ না হয়েও যদি বিদআত না হয় তাহলে শবে বরাত বিদআত হবে কেন ?

এমন আরও অসংখ্য দৃষ্টান্ত দেখানো যাবে । জ্ঞানী এবং সচেতন ব্যক্তিদের জন্য এতোটুকুই বলাই যথেষ্ট ।

 

 

শবে বরাত সর্ম্পকে হাদিস 

 

এবার আপনাদের শবে বরাত কেন্দ্রিক হাদীস ও তার মান দেখাবো । ভালো করে পড়ুন ।

 

১. নং হাদীস

 

عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : ( يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن

অনুবাদ: হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আল্লাহ তাআলা ১৫ই শাবানের রাতে ( শবে বারাআতে) সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

( ফুটনোট: সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-১৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪ সিলসিলাতুল আহাদীছিস আস সহীহাহ-৩/৩১৫)

এই হাদীসের সনদ সহীহ । এ জন্য ইমাম ইবনে হিব্বান একে কিতাবুস সহীহে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুনযিরী, ইবনে রজব, কাস্তাল্লানী, যুরকাবী, নুরুদ্দীন হাইসামী এবং অন্যান্য হাদীস বিশারদ এ হাদীসটিকে আমলযোগ্য সহীহ বলেছেন। ( তারগীব তারহীব ২/১১৮, ৩/৪৫৯ লাত্বাইফুল মা‘আরিফ ১৫১-৩, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ৮/৬৫, শারহুল সাওয়াহিব-১০/৫৬১)

 

২ নং হাদীস‌

 

হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে আমার ধারণা হলো তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন ।

আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম । তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়লো‌ । যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন

এবং নামাজ শেষ করলেন । তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন হে আয়েশা/ হুমায়রা ! তোমার কি আশঙ্কা হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন ? আমি উত্তরে বললাম না ইয়া রাসুলুল্লাহ ।

আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম । তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়লো‌ । যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন

এবং নামাজ শেষ করলেন । তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন হে আয়েশা/ হুমায়রা ! তোমার কি আশঙ্কা হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন ? আমি উত্তরে বললাম না ইয়া রাসুলুল্লাহ ।

আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশংকা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা ? নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কি জানো এটা কোন রাত ? আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন । তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এটা অর্ধ শাবানের রাত । আল্লাহ তাআলা তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন ও অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণ কারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই ।

(শুআবুল ঈমান-হাদীস নং- ৩৬৩৫)

হাদীসটি ইমাম বাইহাকী রহ. বর্ণনা করার পর সনদের ব্যাপারে বলেছেন, মুরসালুন জায়্যিদুন অর্থাৎ আমলযোগ্য।

 

- Advertisement -

৩ নং হাদীস

عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب

 

অনুবাদ: হযরত আয়শা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা বলেন-এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে (মদীনার কবরস্থান) গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন-কি ব্যাপার আয়শা? (তুমি যে তালাশে বের হলে?) তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? (তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?) হযরত আয়শা‌ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন-যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯)হাদীসের মান জয়ীফ ।

 

আপনারা পড়ছেন – শবে বরাত পালন করা কি জায়েজ ?

 

৪ নং হাদীস

 

হযরত আবু মুসা আশআরী রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,

আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে আত্মপ্রকাশ করেন । এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৯০, হাদীসের মান হাসান সহীহ )

 

৫ নং হাদীস

 

عن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها . فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا . فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا من مسترزق فأرزقه ألا مبتلى فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر )

 

অনুবাদ: হযরত আলী বিন আবু তালিব রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত ‌। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে ( শবে বারাআত) তখন তোমরা রাতে নামাজ পড়ো আর দিনের বেলা রোজা রাখো। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডোবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন, কোন গোনাহ ক্ষমা প্রার্থী আছে কি আমার কাছে ? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো ।‌ কোন রিজিক প্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দেবো ।‌ কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি ? আমি তাকে বিপদ মুক্ত করে দেবো‌ । আছে কি এমন ? আছে কি তেমন ? এমন বলতে থাকেন ফজর পর্যন্ত ।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮২২ ) হাদীসের মান জয়ীফ ।

আর জয়ীফ হাদীসের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীনে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো- ফাযায়েলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য। (কিতাবুল আযকার-৭, ফাতহুল কাদীর-১/৪৬৭ )

উল্লেখিত পাঁচটি হাদিসের মধ্যে দুইটি হাদীস জয়ীফ । আর অন্যগুলো তো সহীহ এবং হাসান পর্যায়ের । অতএব শবে বরাতের দলীল যারা খুঁজছেন আশা করি পেয়ে গেছেন ।

 

 

শবে বরাত পালন করা কি বিদআত ?

 

প্রিয় পাঠক । উল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝতে পেরেছেন শবে বরাত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত এবং হাদীস থেকে প্রমাণিত ।‌ আমল করার ক্ষেত্রেও হাদীস ভিত্তিক আমল করতে হবে । তবে সমাজে কিছু বাড়াবাড়ি পরিলক্ষিত হয় ।‌ যেমন‌ মসজিদকে বাসর ঘরের মতো লাল, হলুদ , নীল কাগজ/ ফুল দিয়ে সাজানো । ঝলমলে রঙ্গিন লাইট লাগানো ‌। প্রত্যেকটি ঘরের বাসিন্দাদের সবকিছুকে নতুন করে ধৌত করাকে জরুরী মনে করা । মাগরিবের নামাজের পর গোসল করা । আতশবাজি, পটকা ফোটানো । মাজারগুলোকে ফুলে ফুলে সজ্জিত করা । দলবেঁধে কবর জিয়ারত করা । রাতভর সম্মিলিতভাবে মসজিদে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকা‌ আর হালুয়া-রুটি বিতরণ করা ‌ইত্যাদি । এগুলো করা হলে নিঃসন্দেহে বাড়াবাড়ি এবং বিদআত হবে ।‌

আর যদি এগুলো না করে শুধু ব্যক্তিগত ভাবে ইবাদাত বন্দেগি করে তাহলে বিদআত হবে না । কেননা এ রাতে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদাত করা বিদআত এ মর্মে কোন হাদীস বিদ্যমান নেই । কেউ দেখাতে পারবে না । বরং আরও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে শবে বরাতের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে ।‌

যদিও বা কিছু হাদীস জয়ীফ কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে তো জয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য । শবে বরাত অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পরেও শবে বরাতকে অস্বীকার করা কিংবা বিদআত বলাটা হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক । আর জেনে শুনে এমনটি করে থাকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের‌ হাদীস অস্বীকার করার মতো মারাত্মক অপরাধে অপরাধী হবে সে ব্যক্তি ।

আপনাদের কারো যদি ব্যাক্তিগতভাবে ভালো না লাগে ইবাদাত-বন্দেগী করবেন না । কিন্তু কেউ যদি করতে চায় তাকে বাধা দেওয়া অথবা শবে বরাত সম্পর্কে হাদীসগুলোকে অস্বীকার করা কোন দায়িত্ববান উম্মতের কাজ নয় ।‌

 

 

শবে বরাতে কিভাবে ইবাদাত করবেন ?

 

সুপ্রিয় পাঠক । শবে বরাতের নির্দিষ্ট কোন ইবাদাত নেই । তাই যে কোন নামাজ পড়তে পারেন । অন্য সকল সাধারণ নামাজের মতই নিয়ম । কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন । বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন, আর রহমান, ওয়াকিয়া ,মুলক, সূরা দুখান ,আলিফ লাম মীম সাজদাহ ইত্যাদি ।

করতে পারেন‌ দোয়া-দরুদ, তাওবা ইস্তেগফার ইত্যাদি ।

মনে রাখবেন রাত জেগে এসব করা নফল ইবাদত । এগুলো করতে গিয়ে যেন ফজরের নামাজ কাজা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন । শবেবরাতের আরো বিভিন্ন নিয়ম কানুন জানতে অত্র সাইট ঘুরে আসুন ।

আশা করছি আপনারা এতক্ষণে আপনাদের কাঙ্ক্ষিত জবাব পেয়ে গেছেন । তাই আজ এখানেই শেষ করছি । কথা হবে পরবর্তী সময়ে অন্য কোন টপিকে ইনশাআল্লাহ ।

 

লিখনে: মাওলানা শরিফ আহমাদ

ঢাকা, বাংলাদেশ ।

 

 

 

 

- Advertisement -

error: Content is protected !!