শরীয়তপুরে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ইফা প্রকল্পের ৭টি মডেল মসজিদের কাজ

51

শরীয়তপুরে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ইফা প্রকল্পের ৭টি মডেল মসজিদের কাজ

- Advertisement -

মুহাঃ আবু সুফিয়ান আলমাহমুদ
শরীয়তপুর থেকে

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের ন্যায় শরীয়তপুর জেলা সদরসহ অপর ৬ উপজেলায় ৭টি মডেল মসজিদ তৈরি করছে সরকা র। এর মধ্যে আগামী মার্চের মধ্যে ২টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করতে যাচ্ছে গণপূর্ত বিভাগ। বাকি গুলোর কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, প্রতিটি মডেল মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা ছাড়াও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। জেলা সদরে নির্মিত মসজিদ গুলো হচ্ছে চারতলা এবং উপজেলায় হচ্ছে তিনতলা কমপ্লেক্স। এর মধ্যে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজুর স্থান, লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র, শিশু শিক্ষা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, অতিথিশালা, হজযাত্রীদের নিবন্ধনকেন্দ্র ও ইমামদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। জমির ধরণ ভেদে প্রতিটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২১ সালের ১৭ মার্চের আগেই শরীয়তপুর জেলায় ২টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করতে চায় গণপূর্ত বিভাগ। এ মসজিদের মধ্যে শরীয়তপুর সদর ও গোসাইরহাট উপজেলা রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন উপ পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রনি বলেন,এসব মসজিদে সারা দেশে প্রতিদিন চার লাখ ৯৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ জন নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। একসঙ্গে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ কোরআন তেলাওয়াত করতে পারবেন, ৬ হাজার ৮০০ জন ইসলামিক বিষয়ে গবেষণা করতে পারবেন, ৫৬ হাজার মানুষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রতি বছর এখান থেকে ১৪ হাজার কোরআনে হাফেজ হবেন। মডেল মসজিদ গুলো শুধু নামাজ পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার সুযোগ থাকবে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
শরীয়তপুর জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাস্টার ট্রেইনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে শুধু মসজিদ নয়, বরং ইসলামী সাংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র নির্মাণ করে দিচ্ছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বলছেন, এটা তাদের জন্য বড় পাওয়া। এতে একদিকে যেমন ধর্মচর্চার সুযোগ হবে তেমনি ইসলামের বিভিন্ন বার্তাও জনগণের কাছে খুব সহজেই পৌঁছানো যাবে। সদরে অবস্থিত শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর মাজেদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল বাশার বলেন, “মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের জন্য নয়, ইসলাম ধর্মের সুমহান আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে।“মানুষ যখন ইসলামের সঠিক জ্ঞান পাবে তখন কেউ আর মাদক, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত হবে না। যৌতুক-নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে, মানুষ অন্যায় থেকে দূরে থাকবে। এক্ষেত্রে মডেল মসজিদ গুলোর সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের বিষয় শরীয়তপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২টি মডেল মসজিদ মার্চের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মসজিদ গুলোর কাজ শেষ হবে। এর বাইরে ডিসেম্বরের মধ্যে বাকী ৫টি মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে কাজের গতি কিছুটা মন্থর ছিল। এখন আবার ঐ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে আশা করছি ৫০টি মসজিদের কাজ শেষ করে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী ১৭ মার্চে উদ্বোধন হবে। বাকি গুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।’

- Advertisement -