শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

2,850

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ । আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু ৷ সবাইকে জানাই শেখ রাসেল দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ৷
আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো‌ শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য ।

 

এটি বিভিন্ন প্রোগ্রামে দেয়ার মত একটি বক্তৃতা ৷
কেউ যদি তথ্যপূর্ণ চমৎকার বক্তৃতা উপস্থাপন করতে চান ৷ সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পুরো লেখাটি পাঠ করুন । এবং আয়ত্ত করুন ৷ প্রয়োজনে নোট করুন ৷ আপনারা চমৎকার বক্তৃতা উপস্থাপনের সক্ষম হবেন ইনশাআল্লাহ ৷

বক্তব্য শুরু করার নিয়ম :

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

 

প্রিয় সুধীমন্ডলী!
আজ ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রদ্ধেয় সভাপতি ও সুদক্ষ পরিচালক ও অতিথিবৃন্দ ৷ সবার প্রতি রইল আন্তরিক মুবারকবাদ ৷

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

 

মূল বক্তব্যে প্রবেশ :

 

আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন হয়তো আগে থেকেই অবগত আছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিল শেখ রাসেল।

 

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা অঞ্চলের ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সালে জন্ম গ্রহণ করে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রিয় লেখক খ্যাতিমান দার্শনিক নোবেল বিজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে এবং বেগম ফজিলাতুন নেসার পরামর্শে পরিবারের নতুন সদস্যর নাম রাখেন শেখ রাসেল ।

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা

শৈশব কাল থেকে প্রাণবন্ত দুরন্ত, দুঃসাহসী ছিল রাসেল । ছিল অতি আদরের । ভালোবাসার । পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে রাসেল ছিল সর্বকনিষ্ঠ । শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল তখন।
আপনাদের স্মরণ করে দেওয়ার জন্য বলছি – ১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থান হয় ।

 

ঐ সময় বিপথগামী কিছু সেনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ রাসেলসহ পরিবারের সবাইকে শহীদ করে । এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। হৃদয়বিদারক । এই ইতিহাস স্মরণ হলে অশ্রুতে চোখ টইটম্বুর হয়ে ওঠে । তাকে নিয়ে কথা বলতে অ-নে-ক কষ্ট হয় । হৃদয় ফেটে চৌচির হয় । এমন ঘটনা বিশ্বে খুব কমই ঘটেছে।

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

বক্তব্যে বৃদ্ধি করার নিয়ম :

মানব শিশু জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ । পরিবার গঠনের অন্যতম অনুষঙ্গ। আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু । মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠ দান ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম শিশুদের খুব আদর করতেন । ভালবাসতেন। জীবনের কঠিন মুহূর্তেও তিনি শিশুদের কথা মনে রাখতেন । সর্বদা আদর-স্নেহের চাদরে তাদের জড়িয়ে রাখতেন । হযরত উবাদা ইবনে সামেত রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু থেকে
বর্ণিত ।

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন , যে ব্যক্তি শিশুদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয় ‌। ( মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২২৬৫৪)
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ি আসতেন । আমার ছোট ভাইয়ের (যার উপনাম ছিল আবু উমায়ের।) একটি বুলবুলি পাখি ছিল ।

 

সে পাখিটি নিয়ে খেলা করত । এক সময় পাখিটি মারা যায় । এরপর একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ি এসে দেখেন আবু উমায়ের মন খারাপ করে আছে । তিনি জিজ্ঞেস করলেন তার কি হয়েছে ? তারা বলল তার বুলবুলি পাখিটি মারা গেছে । তিনি ছন্দ মিলিয়ে বললেন, হে আবু উমায়ের কি করেছে তোমার নুগায়ের ? তাকে নবীজি এ কথা বলে আনন্দ দিতে চেষ্টা করেন । ( আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৭১ )

 

এছাড়াও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারী এবং শিশুদেরকে নিরাপদে রাখতে নির্দেশ এবং উৎসাহিত করেছেন । যারা শিশুদেরকে ভালবাসে না তাদেরকে উম্মত নয় বলে সাবধান করে গেছেন। অথচ ওই বিপথগামী সৈন্যরা শিশু শেখ রাসেলকে ….. ( এখানে দুঃখের সাথে কথাটা ফুটিয়ে তুলতে হবে )
এবার আপনারাই বলুন বিশ্ব নবীজির হাদীস মোতাবেক তারা কি তার উম্মত নাকি পথভ্রষ্ট ?

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা

বক্তব্য শেষ করার নিয়ম :

সম্মানিত উপস্থিতি । বঙ্গবন্ধু যেমন শৈশবকালে গরীব দুঃখীদের পাশে থাকতেন ,নিজের গোলা থেকে ধান অন্যদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন ঠিক তেমনি ছিলো শেখ রাসেল । বঙ্গবন্ধু যেমন ছোটকাল থেকে সাহসী এবং আদর্শ নেতার প্রতিচ্ছবি তার মাঝে ছিল তদ্রূপ ভাবে শেখ রাসেল এর মধ্যেও আদর্শ নেতার নিদর্শন বিদ্যমান ছিল ।

আজ সে বেঁচে থাকলে পিতার মতো যোগ্য এবং আদর্শ নেতা হয়ে দেশ ও জাতির রাহবার হতো । এতে আমার কোন সন্দেহ নেই । জন্ম দিবস উপলক্ষে তার প্রতি অগাধ ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা । তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি হত্যাকারীদের প্রতি । এতক্ষণ ধৈর্য ধরে কথাগুলো শোনার জন্য আবারো আপনাদের
আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।

 

ধন্য ও সার্থক হোক শেখ রাসেল দিবস । শেখ রাসেলের আলোচনা ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময় । এ যুগের শিশুরা তার মত এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখুক , আলোকিত হয়ে উঠুক প্রিয় বাংলাদেশ । ( এরপরে দলীয় স্লোগান বা সালামের মাধ্যমে আলোচনা শেষ করুন )

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

লিখনে: শরিফ আহমাদ
লেখক ও শিক্ষক

- Advertisement -