মুহিবুল্লাহ ফুয়াদের গল্প – লিচু চোর

লেখা - মুহিবুল্লাহ ফুয়াদ

0 26

 

লিচু চোর
মুহিব্বুল্লাহ ফুয়াদ 

তাহলে কথা এটাই থাকলো হ্যাঁ! কি বলিস তোরা?
রফিক, কি কথা রে?
কেন?এতক্ষণ যা আলাপ করলাম!তুই কি কিছুই  শুনিস নি?দেখ বেলাল, ও কিন্তু মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছে!বাঁপাশ থেকে, সজিব তুই কিন্তু আমায় ডেকে নিয়ে আসবি,আমি পথ চেয়ে থাকব তোর।বলছিল রাহাত।ঠিকাছে তাহলে, ঠিক এগারোটায় দেখা হচ্ছে ফের। এবার চলি রে!…হুম চল।

ঘড়ি দশটা হয়েছে সবে।বেড়িয়ে পড়েছে রহিম।সবকিছু আগে থেকেই ঠিকঠাক। আস্তে-ধীরে দরজাটা বন্ধ করে অন্ধকারে হারিয়ে গেলো। সে দাদার একমাত্র নাতি।ওর বাবা-মা ঢাকায় থাকেন।ওর দেখাশোনা এখন দাদা-দাদিই করছেন।খুবই সৎ চঞ্চল এবং কোমল মনা। কিছুটা দুষ্টু প্রকৃতির’ও।সেই দুষ্ট বুদ্ধি ও কোমল মনার কারণেই চুরির ইচ্ছে।সজিব ছেলেটাও খুবই নম্র ভদ্র। আত্মিক ভাবে অসচ্ছল হওয়ায় অনেক সময় আল্লাহর নিয়ামত সমূহ থেকে বঞ্চিত থাকে। তারই সাধ জেগেছিল লিচু খাবার।আজকের চুরির মূল হোতাই সে।
গাছের ডালে চুপটি বসে রহিম ভাবছে, আহ!দাদাটা এতো কৃপন হওয়ায় আজ নিজের গাছ থেকে নিজেই…
কিরে রফিক এসেছিস?ভালোই হলো। একা একা আর ভাল্লাগছিল না!তুই এসেছিস এখন ভাল্লাগবে নিশ্চয়। ফিসফিস করে কথা চলছে দু’জনের।
এই তোরা কই?জিজ্ঞেস করছিল বেলাল।
এই দিকে আস দুস্ত।
আরে রফিক তুই একা না-কি?
না ভাই রহিম আছে। চিল্লা কম।
রহিম,দেখ!এগারোটা পেরিয়ে যাচ্ছে এখনো সজিব রাহাত এলো না! বেশি বিলম্ব হলে দাদা খুঁজবে আমায়!এদিকেও আসতে পারেন। ওইতো লাইটের আলো দেখা যাচ্ছে হয়তো ওরা আসছে। কিরে… এতো দেরি কেন?
সজিব,আর বলিস না!রাহাতের যা কাণ্ড! ওর জন্যই এতোটা দেরি হয়েছে।আচ্ছা চল বাগানে ঢুকি!
হুম চল!

- Advertisement -

 আরো পড়ুন – মিয়া খলিফার চশমা নিলামে

ওরে বাপরে..!এরা আবার কারা?রহিম তুই কি আরো কাউকে দাওয়াত করেছিস?দেখ,একসাথে অনেকগুলো লিচু খেয়ে নিলে সকালে কিন্তু দাদা হার্ট অ্যাটাক করতে পারেন!বলছিল সজিব।
না না, আমি আর কাউকে বলি নি তো!তাহলে হয়তো ওরা চোর হবে।ঠিক বলেছিস রাহাত।চল আমরা একটা কাজ করি!কি?রফিক জিজ্ঞেস করল।সজিব বলল,আমরা ওদের দলে মিশে যাই।তাহলে ওদের চেনাটা সহজ হবে।ঠিকই বলেছিস।গুড আইডিয়া।
ধীরে ধীরে গাছে উঠে গেছে সবাই।ঘোর কালো অন্ধকার। একটু চাঁদনি’ও নেই। ঝিনুক পোকাগুলো দূরে নিভু নিভু জ্বলছে।সামান্য কিছু তারা দেখা যায়।চেনাই যাচ্ছে না কাউকে!বুদ্ধিমান রহিম কোন কথা বলল না।সজিব আর রাহাত ফিসফিস করে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলো,তোমরা ক’জন এসেছো?
…আমাদের দলে পাঁচজন।
আমাদের সাথে এক জাস্ট হবে কি?সজিব জিজ্ঞেস করল।
না,যে যার মতো পেরে নাও!কেউ কারো ভাগে হাত বসাবে না, ঠিকাছে?
হুম। রাহাত কানেকানে বলল,এই আমি এদের চিনে গেছি।এবার চল আমরা কেটে পড়ি!হুম। রহিম তুই বেলাল আর রফিককে ডেকে নে!ঠিকাছে।
সবাই ফিরে গেছে। একটা লিচুতেও কেউ হাত দেয় নি।
পরদিন ভোরে..
ও সালেহা.. কই গো…?ও সালেহা..!দেইখ্যা যাও আমার সব শেষ হইয়া গেছে!আমার নাতিডারে কিতা দিমু?আমার পুলা বউডিরে কি কমু..?ডাল-ডোল ভাইঙ্গা সব লেচু চোরে নিয়ে গেছে !
হায় হায়! এ আমার কি শর্ব্বনাশ করল?কেডা এই কামডা করল?হইচই শুরু হয়ে গেলো বাড়িতে।দাদুর চেচামেচিতে জড়ো হয়ে গেছে লোকজন। ঘুম থেকে জেগে বেরিয়ে আসে রহিম।দাদা-দাদিকে টেনে ধরে বলে,মাথা ঠান্ডা রাখো!চোর অচিরেই ধরাবপড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
দাদু,এই তুই এইডা কি কস?তুই কেমনে চোর ধরবি?আহা তুমি চুপ করত!
কিছুক্ষণ পর সজিব,রাহাত,রফিক এবং বেলাল এলো। এসেই দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে চলতে লাগল।মাতাব্বররা বারবার বলতে লাগল,কই নিয়া যাইতাছো বাজানরা?উত্তর না দিয়েই হাঁটতে থাকে।অবশেষে জব্বর মাদবরের বাড়িতে গিয়ে থামে।জব্বর মাদবর থমকে গেলেন!বাবা তোমরা এইনো কেল্লাগি আইছো?এইডা তো আমার বাড়ি!
হুম চাচা,এইটা আপনার বাড়ি ঠিক।কিন্তু এইখানে চোর থাকে।আপনার খায় পরে।এমনকি আপনারই বদনাম করে। কার কথা কইতাছো বাজান?
আর কে হবে..!আপনার ছেলেই তো!
এইডা কি কইতাছো বাজান..!আমি তো আমার পুলারে এইরকম শিক্ষা দিই নাই..!
আপনি দেন নাই ঠিক চাচা।কিন্তু আপনার আড়ালে আপনার ছেলে রাজিব অনেক কুকর্মের সাথে জড়িত।আজ আপনাকে সব প্রমাণ দিবো ইনশাআল্লাহ।

আরো পড়ুন –

মসজিদের সামনে নাচার বিষয়ে যা বললো মুনমুন

জব্বর মাদবর,তোমরা যদি ওরে প্রমাণ করতে পারো তাইলে তোমরারে পুরস্কৃত করা হইবো কইলাম।আরে মিয়া তুমি কি পাগল হইছো?তোমার পুলা খুব ভদ্র। দেখা হইলেই সালাম করে,ভালা মন্দ জিকায়।ও এইরকম করব না কোনোদিন! বলছিল আরিফ চাচা।যিনি এই এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। সবাই উনারে আরিফ নামেই চিনে।আরেকটু বুকটা উঁচিয়ে বলে উঠে জব্বর মাদবর এইডাইতো আইজকা ওদের প্রমাণ করতে হইব,নইলে ওদের কে সাজা দেয়া হইব।আমার পুলার উপর অপবাদ! দেইখা দিমু।
সজিব সোজা গোয়াল ঘরে ঢুকে মাদবর চাচাদের নিয়ে।এই যে দেখুন,কতগুলো লিচু!দেখেছেন?ওই দেখুন,তাসের গাট্টি! সত্যিই তো! ওরা তো ঠিকই কইতেছে জব্বর মিয়া!আপনার পুলাডা নষ্ট হইয়া গেছে হয়তো! আপনে ওর সবকিছু চেক করেন!জব্বর মিয়া হতাশ হয়ে পড়েন।এসব কি..!দৌড়ে ঘরে প্রবেশ করেন।বিছানার নিচে প্রায় আধা কেজি ওজনের একটি ব্যাগ পেলেন।ছেলেকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন,এগুলো তার বন্ধু হাসানের।জব্বর মিয়ার আর বুঝতে বাকি রইল না যে, ছেলেটা হাত ছাড়া হয়ে গেছে অনেক আগেই!অথচ এখনো ষোল বছর পেরুই নি!বেদম মারধর করলেন সবার সামনে।এমনকি পুলিশে দেবার সিদ্ধান্তও নিয়ে নিয়েছিলেন।কিন্তু সমবয়সী রহিম তার বাবার পথ আঁটকে  দেয়। ভালো হবার আরেকটি সুযোগ করে দেয় রাজিবকে।খুশি হয়ে জব্বর মাদবর ওদের পাঁচজনকেই পাঁচশত টাকা পুরস্কার দিলেন।

 

- Advertisement -